নিহত মলিনা রায় ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া এবং রতন রায়ের স্ত্রী। স্বজনরা জানান, রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। তিনি বাইরে থাকায় মলিনা রায় তার মেয়ে পূজা রায়কে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে রথযাত্রায় অংশ নিতে ভবনের বাসিন্দারা ভিমরুলী-কৃত্তিপাশা এলাকায় যান। সে সময় ভবনে একা ছিলেন মলিনা রায়।
রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন কক্ষের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে মলিনা রায়ের মেয়ে পূজা রায় বাসার দরজা খোলা এবং ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে প্রবেশ করে তিনি তার মাকে হাত-পা বাঁধা এবং মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত মলিনা রায়কে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভবনের মালিক তপন হালদার বলেন, “রথযাত্রা উপলক্ষে আমরা সবাই বাইরে গিয়েছিলাম। রাতে ফিরে এসে দেখি ভবনের নিচতলা, দ্বিতীয় তলা ও তৃতীয় তলার বিভিন্ন ফ্ল্যাটের তালা ভাঙা। ঘরের মালামাল তছনছ অবস্থায় ছিল। পরে নিচতলার ভাড়াটিয়ার মেয়ে তার মাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আমরা ঘটনাটি জানতে পারি।”
তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল জানান, “আমরা অনুষ্ঠান শেষে ফিরে এসে দেখি নিচতলায় একজন নারী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আমার বাসা এবং বাড়িওয়ালার বাসা থেকেও নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো.মামুন আল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস. এম. বায়জীদ ইবনে আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যা করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”



