বরিশাল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশত নবীন শিক্ষার্থীকে ৫ ঘণ্টা র্যাগিং
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অর্ধশত নবীন শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা র্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভোলারোডে নির্মাণাধীন বিটাক ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়। এতে এক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ববি প্রশাসন।
জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টার কিছু সময় পর থেকে পাঁচ ঘণ্টা র্যাগিং দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে জানাজানি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের গোপন মেসেঞ্জার গ্রুপে সম্প্রতি ইমিডিয়েট সিনিয়রদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। সেই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা আইন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
ভুক্তভোগী একাধিক নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ক্যাম্পাসের কুকুর দেখলেও তাদের সালাম দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে নিষেধ করার পাশাপাশি হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে। মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও ঘড়ি কেড়ে নিয়ে তাদের আটকে রাখা হয়।
কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী র্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করলে তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনা শিক্ষকদের জানালে কোনো বিচার হবে না এবং ক্যাম্পাস জীবন দুর্বিষহ করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে ববি প্রশাসন। কীভাবে, কোন পথ দিয়ে এবং কখন নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য সরাসরি গ্রহণের পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ববি প্রশাসন।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী একই অভিযোগ করে বলেন, অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা খুবই ভালো ব্যবহার করেছেন এবং আপ্যায়ন করিয়েছেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে ববির ১ নম্বর গেট দিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসের বাইরে নির্মাণাধীন একটি পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে একজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে কয়েকজন ছাত্রী কান্না করেন। এসব বিষয় যেন শিক্ষকদের না জানাই, সেজন্য আমাদের শাসানো হয়।
ববির সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুই পক্ষই আমাদের সন্তানের মতো। আমরা তাদের কোনো ক্ষতি চাই না। কিন্তু ববি যখন র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখন এমন অভিযোগ ওঠায় আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। এ ঘটনার তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিং ইস্যুতে ববির অবস্থান জিরো টলারেন্স।



