উজিরপুর
বরিশালে বাবাকে ডেকে নিয়ে হত্যা, ১৬ বছর পর ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বরিশালের উজিরপুরে বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে হত্যার দায়ে ছেলে পলাশ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ ১৬ বছর পর এ মামলার রায় দেয়া হয়েছে।
বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় পলাশ আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এ মামলার অপর দুই আসামি কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মোহাম্মদ তুহিন মোল্লা।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পলাশ হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে। ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। ওই রাতেই পলাশসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন আলী আকবরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
পরদিন ৩ মে ভোরে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার পাশের একটি ধানক্ষেতে আলী আকবরকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী শহিদ হাওলাদারের করা এজাহারে বলা হয়, পলাশ দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে আলী আকবর তাতে আপত্তি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ছাড়া প্রথম স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় পলাশ কারাভোগ করেছিলেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মামলায় বাবার ইন্ধন রয়েছে—এমন ধারণা থেকে আলী আকবরের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন পলাশ। ঘটনার রাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পরদিন ধানক্ষেত থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার রায় পলাশ হাওলাদারসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণসহ দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত পলাশ হাওলাদারকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


