বরিশাল
কলেজছাত্রের হাত বিচ্ছিন্ন : আসামীদের রক্ষায় ধ’র্ষ’ণচেষ্টা মামলা পর এবার লু’ট’পা’ট মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড নলিদাসের পোল এলাকায় প্রকাশ্যে কলেজছাত্র দ্বীন ইসলাম খান মুন্নাকে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর মিথ্যা অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করার পরে এবার নতুন করে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই এ মামলা দায়ের করেন নবগ্রাম রোড খান বাড়ীর বাসিন্দা কামাল উদ্দিন খানের স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত ১৬ জুন নবগ্রাম রোড খান বাড়ীর বাসিন্দা কালাম খানের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন (৫৪) বাদী হয়ে শ্লীলতাহানীর মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। উভয় মামলায় হত্যাচেস্টা মামলার বাদী সহ একই বাড়ীর বাসিন্দা মজিবুর রহমান রহমান ওরফে সুরুজ খান, মারুফ খানসহ তাদের নিকাটাত্মীয়দের আসামী করা হয়েছে।
মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগে আসামী করায় বিস্ময় প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, মূলত দুটি সাজানো ঘটনার বাদীদ্বয় পরিবারের সদস্যদের প্ররোচণায় মামলা দুটিতে যা যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। প্রকৃত ঘটনা হলো কলেজছাত্র মুন্নাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে ওই মামলার ২ নম্বর আসামী রানা খান। তার মা হলেন ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী নিলুফা বেগম। মূলত ছেলেকে মারামারির মামলা থেকে বাঁচাতে এ ধরণের বানোয়াট কাহিনী রচনা করে আদালতে ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেছে সে।
কলেজ ছাত্র মুন্নার স্বজনদের অভিযোগ, মুন্না হত্যা চেষ্ঠার মামলায় আসামীরা ফেঁসে যাওয়ার আশংকা থেকেই হয়রানির উদ্দেশ্যে নতুন একটি কল্পকাহিনী তৈরী করে ভাংচুর-লুটপাটের কথিত অভিযোগ আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় যিনি বাদী হয়েছেন তিনি কলেজছাত্র মুন্নাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিজেই ৫নং আসামী। এছাড়া ওই মামলার ১নং আসামীর ভাবি এবং ২নং আসামীর চাচি এই মিথ্যা মামলার বাদী হয়েছেন।
নার্গিস আক্তারের দায়ের করা মামলার বিবাদীরা অভিযোগ করে বলেন, মুন্নাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্ঠায় যারা জড়িত তারা নিজেদের রক্ষা এবং মুন্নার সাথে ঘটে যাওয়া বর্বোরোচিত ঘটনার পর যারা প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহনসহ ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বাদী ও স্বাক্ষী হয়েছেন তাদের হয়রানির উদ্দেশ্যেই একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন।
বিবাদীদের ভাষ্য-মূলত তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। বিবাদী সুরুজ খান অভিযোগ করে বলেন-নিলুফা বেগম ও নার্গিস আক্তার আমাদের নিকাটাত্মীয়। তাদের সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। তাদের ছেলে, দেবর সহ বেশ কয়েকজন মিলে মুন্নাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মুন্না এখনো ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি। তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলার তিন নম্বর আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কিন্তু অন্য আসামিরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। মামলা থেকে বাঁচাতে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
উল্লেখ্য, নির্মাণাধীন একটি বাড়ির জন্য আনা বালু রাখা নিয়ে গত ৩০ মে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টির মীমাংসা হলেও ৩১ মে সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মুন্নার উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে।আহত মুন্নার বাবা লিটন খান জানান, আগের রাতেই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে নলিদাস পোল এলাকায় কাজে যাওয়ার পথে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। হামলায় মুন্নার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।বর্তমানে মুন্না ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বরিশালের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ডিগ্রি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী।



