খেলাধুলা
৬৫ কোটি টাকার স্টেডিয়াম, তবু সংকটে বরিশালের ক্রিকেট! সুইমিংপুল নিয়ে নতুন ভাবনা
বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে আধুনিকায়ন করা হয়েছে নগরীর কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম। প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা এই স্টেডিয়ামে যুক্ত হয়েছে নতুন চেয়ার, সংস্কার করা প্যাভিলিয়ন ও মিডিয়া ভবন, তিনতলা হোস্টেল এবং ফ্লাডলাইট। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরও স্থানীয় ক্রিকেটের নিয়মিত চর্চা, নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং খেলার মাঠের সংকট নিয়ে কাটেনি অনিশ্চয়তা।
১৯৬৬ সালে ২৯ দশমিক ১৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামটি প্রথমে বরিশাল স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালে এর নামকরণ করা হয় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম। পরে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম।
স্টেডিয়ামটির সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পরে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের শেষ দিকে সংস্কারকাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছিল। অবশিষ্ট কাজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ করার আশা করা হচ্ছে।
সংস্কারের পর দর্শক ধারণক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজারে। আগে গ্যালারিতে চেয়ার না থাকায় ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। অর্থাৎ দর্শকদের বসার ব্যবস্থা উন্নত হলেও ধারণক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে।
আধুনিকায়নের পর স্টেডিয়ামটিতে বড় পরিসরে ক্রিকেট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও বরিশাল বিভাগের খেলোয়াড় নির্বাচনের সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর সংস্কারকৃত স্টেডিয়াম চালু করে সেখানে ১৫ দিনের ডি-থ্রি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ছয় দলের এই প্রতিযোগিতায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকার ক্রিকেটারদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তবে স্থানীয় ক্রিকেটের উন্নয়নে শুধু বড় টুর্নামেন্ট যথেষ্ট নয়। বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ এজাজ আল মাহমুদ মনে করেন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন। এতে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে।
স্টেডিয়ামসংলগ্ন পরিত্যক্ত সুইমিংপুল নিয়েও নতুন করে ভাবছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ২০০০ সালের ১১ এপ্রিল উদ্বোধন করা চাঁদমারি এলাকার সুইমিংপুলটি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি। প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি এখন অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব আনোয়ারুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠের সংকট কমাতে পরিত্যক্ত সুইমিংপুল সরিয়ে সেখানে আলাদা খেলার মাঠ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও সে জন্য উন্নত আবাসন, যাতায়াতব্যবস্থা এবং বড় প্রতিযোগিতা পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটের ভিত্তি শক্তিশালী করতে নিয়মিত লিগ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছ খেলোয়াড় নির্বাচন প্রয়োজন।
বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা, প্রায় ৬৫ কোটি টাকার উন্নয়ন যেন শুধু স্টেডিয়ামের সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত খেলার সুযোগ সৃষ্টি, সুইমিংপুলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম দক্ষিণাঞ্চলের ক্রীড়া বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’


