গৌরনদী
বরিশালে কাদা-পানিতে ধানের চারা রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে বহু আগেই, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দে জমা বৃষ্টি আর কাঁদা পানিতে হারিয়ে গেছে হাঁটার পথটুকুই। বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা এমন বেহাল সড়ককে এবার ধানক্ষেত বানিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। খানাখন্দে জমে থাকা কাঁদা-পানিতে ধানের চারা রোপণ করে ভিডিও তৈরি করার মাধ্যমে গৌরনদী উপজেলার দুই এলাকার বাসিন্দারা তুলে ধরেছেন তাঁদের প্রাত্যহিক দুর্ভোগের চিত্র।
এমন চিত্র দেখা গেছে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হ্যালিপ্যাড সড়ক এবং বাটাজোর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শৌলকর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সাথে সংযোগকারী পৌরসভার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়কটি ১.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কের অধিকাংশ স্থানের পিচ উঠে গিয়ে কাঁদা মাটিতে পরিণত হয়েছে। ফলে অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষ এবং প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে কাঁদা-পানি একাকার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মহাসড়কে আসা-যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বাটাজোর ইউনিয়নের শৌলকর গ্রামের সড়কটির অবস্থাও একই রকম। সংস্কারের অভাবে চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কটি যাতায়াতের পুরো অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জরুরী অবস্থায় মুমূর্ষু রোগী পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম নাজেহাল হতে হচ্ছে এই দুই এলাকার পথচারীদের।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরম ক্ষোভ থেকে এই প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নেন স্থানীয়রা। ভিডিওর মাধ্যমে তারা দেখাতে চেয়েছেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলো এখন আর সড়ক নেই, ধানক্ষেতে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবাদকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমরা কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এটা করিনি। আমাদের মূল দাবি সড়ক দুটির দ্রুত সংস্কার। মহাসড়ক ও হাসপাতালে যোগাযোগের এই প্রধান মাধ্যমগুলো সচল হলে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি দূর হবে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম জানান, বৃষ্টি কমলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরজমিনে পরিদর্শনে পাঠানো হবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সড়ক দুটির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



