বরিশাল
বিদায়লগ্নে ঝাড়ুমিছিলের মুখোমুখি বরিশালের বিতর্কিত ডিসি
বরিশালের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে সেবা বঞ্চনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল করেছেন ছিন্নমূল নারীরা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভ চলাকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক চলছিল। খবর পেয়ে খায়রুল আলম সুমন বৈঠকস্থল ছেড়ে সরকারি ডাকবাংলোয় চলে যান বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন সহায়তার জন্য আবেদন করেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমন ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাহানুর বেগম বলেন, বহুবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েও আমরা কোনো সহায়তা পাইনি। উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। আরেক বিক্ষোভকারী পিয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা এমন একজন মানবিক জেলা প্রশাসক চাই, যিনি সুইপার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা— সবার কথা শুনবেন। জেলার অভিভাবক হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু সাবেক ডিসি সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের কথা শুনতেন না। এমনকি গণশুনানির সময়ও আমাদের তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।’
জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, খায়রুল আলম সুমন ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকারীন সরকারের শাসনামলে বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিযোগ পান। দায়িত্ব পালনকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খোদ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেকার অসন্তোস তৈরি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একাধিক সংবাদ মোটাদাগে প্রকাশ পেলে শুরু হয় তোলপাড়। কিন্তু ডিসি খায়রুল আলম ক্ষ্যান্ত হননি। তথ্য ফাঁসের সন্দেহে অন্তত ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বদলি করেন তিনি।
এমন প্রেক্ষাপটে গত বুধবার সরকার তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে পরবর্তী পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মামুন খন্দকারকে বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার আগমুহূর্তে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে ঝাড়ু হাতে জড়ো হতে থাকেন ছিন্নমূল মানুষেরা। একপর্যায়ে তারা একত্রিত হয়ে ডিসি খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতিবাচক শ্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এতে ডিসি অফিসের পরিবেশ-পরিচিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে জেলা প্রশাসক পাজারো গাড়িতে চেপে ডাকবাংলোর উদ্দেশে রওনা হয়। তখন ছিন্নমূলত মানুষের প্রতিবাদ নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে ডিসি কোনো উত্তর না দিয়ে গাড়িযোগে চলে যান।


