কলাপাড়া
অনুমোদন নেই, কুয়াকাটায় এমপি মাসুদ সাঈদীর রিসোর্টের কাজ বন্ধ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের এ প্রকল্পে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিকে প্রচারে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন তিনি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি সেখানে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিনা মূল্যে অবস্থানের সুযোগ এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’


