ভোলা
ইলিশ শিকারে টাকা লেনদেনের অভিযোগ, কর্মকর্তা-ব্যবসায়ীর অডিও ভাইরাল
নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার মনপুরায় মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেয়ার বিনিময়ে টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তা ও মৎস্য ব্যবসায়ী এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে টাকা লেনদেন এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা নিয়ে দুই ব্যক্তির কথোপকথন শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা ও কথোপকথনের প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভাইরাল অডিওতে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখাকে বলতে শোনা যায়, ‘রহিম ভাই, শোনেন, একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠায় দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাই দিমু।’
জবাবে আবদুর রহিমকে বলতে শোনা যায়, ‘যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন।’
এরপর কাজল রেখাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে তো চা খাওয়ার জন্যেও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম।’
এ অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত দুই শতাধিক ট্রলারের প্রতিটি থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ ধরার সুযোগ দেয়া হতো। পরে সংগৃহীত অর্থ ভাগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, ‘এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগবাটোয়ারার খেলা।’
অভিযুক্ত মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। সত্যতা নিশ্চিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা বলেন, ‘এইটা অনেক আগের রেকর্ড।’ পরে তিনি প্রতিবেদককে তার কার্যালয়ে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



