ভোলা
মেঘনার পাড় ধসে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
ভোলায় মেঘনা নদীর পাড় ধসে নিখোঁজের চার দিন পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মো. আমজাদ হোসেনের (২৮) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মেঘনায় নিখোঁজ হওয়া দুই বন্ধুরই লাশ উদ্ধার করা হলো।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে জেলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর মিজানের চর এলাকা থেকে আমজাদের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
নিহত আমজাদ হোসেন ভোলা পৌরসভার কালীবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রোমায় কর্মরত ছিলেন। তার পিতা ইব্রাহিমও বিজিবির কর্মরত সদস্য।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার ‘গরিবের দুবাই’ খ্যাত নামের মেঘনা নদীর তীরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মির্জাকালু নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, জেলে ও স্থানীয়রা চরে মরদেহটি দেখতে পেয়ে নৌ-পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে মরদেহটি মেঘনা নদীতে নিখোঁজ বিজিবি সদস্য আমজাদের বলে শনাক্ত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় আমজাদ, রাকিব, ফাহিম ও শাওনসহ মোট ৫ বন্ধু মেঘনা নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আড্ডার একপর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বসানো জিও ব্যাগসহ নদীর পাড়ের একাংশ হঠাৎ ধসে নদীতে পড়ে যায়। এতে ৫ বন্ধুই খরস্রোতা নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে ৩ জন সাঁতার কেটে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও আমজাদ ও রাকিব নিখোঁজ হন।
৩ বন্ধুর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও নিখোঁজ দুজনের সন্ধান মেলেনি। পরে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভোলা সদর উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, সদর মডেল থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
শুক্রবার সকালে ভাসমান অবস্থায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে সেখানকার নৌ-পুলিশ। সর্বশেষ শনিবার আমজাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।



