বরিশাল
ভিত্তিপ্রস্তরের ৯ মাসেও শুরু হয়নি মীরগঞ্জ সেতুর কাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জ ও মুলাদীর মধ্যবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আড়িয়াল খাঁ নদীর মীরগঞ্জ পয়েন্টে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
তখন বলা হয়েছিল, জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজ শুরু হবে। কিন্তু হয়নি। এনিয়ে গত ৬ এপ্রিল সংসদেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা তড়িঘড়ি করে ব্রিজ উদ্বোধন করে আসছে। কিন্তু কাজ শুরু হয়নি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এর তথ্য অনুযায়ী, এ সেতুটি নির্মাণে ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর একনেকে অনুমোদিত আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিতব্য মীরগঞ্জ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ১ হাজার ৪৮৪ মিটার। এর মধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৫৪৪ মিটার এবং ভায়াডাক্ট ৯৪০ মিটার। দুই পাশে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পে নদীতীর রক্ষা, ভূমি অধিগ্রহণ, টোল প্লাজা, সড়কবাতি, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো যুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে সেতু, সংযোগ সড়ক ও নদীশাসনের কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৩৬ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা।
মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগজ্ঞ বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত মীরগঞ্জ সেতুর কাজ এখনও শুরু না হওয়া হতাশ তাঁরা। আবার ভোলাকে বরিশালের সাথে যুক্ত করতে নতুন যে প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে তাতে মীরগঞ্জ সেতু হয়ে বরিশালে যুক্ত হবে ভোলা। তাই মীরগঞ্জ সেতু গুরুত্ব কয়েকগুন বেড়েছে।
মুলাদীর বাসিন্দা আক্কাস শিকদার বলেন, বছরের পর বছর ধরে সেতুর প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি । আর কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এবার সেতুর বাস্তব নির্মাণকাজ দেখতে চাই।
হিজলার বাসিন্দা রব মিয়া বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শুধু শুনি মীরগঞ্জ সেতুর কাজ এই হচ্ছে হবে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বাস্তবে তো কিছুই দেখতে পাইনা। দৃশ্যমান কাজ ছাড়া আমরা আর কোন কথা শুনতে চাই না।
মীরগজ্ঞ সেতুর প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফারহানা হুসনা বলেন, “কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ইতোমধ্যে ডিজাইন দিয়েছেন। ডিজাইন যাচাই বাচাই চলছে। ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হচ্ছে। প্রক্রিয়াগুলো শেষ হলে কাজ শুরু হবে।”
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, এই সেতুর প্ল্যান পাস হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু করে দিয়েছে। মীরগঞ্জ সেতুর কার্যক্রম খুব দ্রুতগতিতে শুরু হবে এবং কাজ সম্পন্ন করা হবে।



