কলাপাড়া
বাবার নামের মিল থাকায় ২০ দিনের কারাভোগ করলেন নিরপরাধ জলিল
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শুধু বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিনাদোষে ২০ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন জলিল হাওলাদার নামের এক নিরপরাধ ব্যক্তি। সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক নির্দোষ ব্যক্তির ঘটনা অবহিত হয়ে তাকে জামিন প্রদান করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাদশা। একইসঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে ওসি মহিপুর থানা ও মামলার বাদী পক্ষকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত এ কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।
আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাদশা জানান, শুধু ওয়ারেন্টে আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু এর দায়ভার সম্পূর্ণ পুলিশের।
তিনি বলেন, গ্রামের একজন লেখাপড়া না জানা সহজ সরল মানুষকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং নিরপরাধ এই মানুষটি দীর্ঘ ২০ দিন কারাভোগ করেছেন। এর দায় মহিপুর থানা পুলিশ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
মামলার বিবরণের উদ্ধৃতি দিয়ে হুমায়ুন কবির বাদশা আরও জানান, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর থানার শিববাড়িয়ার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী।
এ মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট নাম ও বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় একই গ্রামের জলিল হাওলাদারকে মহিপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু মূল আসামি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এমনকি নির্দোষ মানুষটির মায়ের নামটিও যাচাই করা হয়নি। যেখানে মায়ের নামে অমিল রয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার ব্যক্তি একজন নন। তাদের নাম, বাবার নাম এবং গ্রামের নাম এক হলেও মায়ের নাম ভিন্ন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে, যে মামলার সঙ্গে তার আদৌ কোনো সম্পৃক্ততাই নেই।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি শামিম হাওলাদার জানান, আদালতের পাঠানো গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন এসআই শহীদুল। তবে আসামির নামের সঙ্গে এবং বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পরোয়ানায় ছবি কিংবা মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, ওয়ারেন্টে মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এ ভুল হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে ওয়ারেন্ট তামিলে ভবিষ্যতে যেন কোনো ভুল না হয় তাই আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।



