বরিশাল
বরিশালে ইউনিয়ন পরিষদের এসি-আসবাবপত্র খুলে বাসায় নিলেন চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আশ্রাফুজ্জামান খান খোকনের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার শেষ কর্মদিবসে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের এসিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র খুলে বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ আগস্ট তার এই ইউনিয়নের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপরে মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদে সরকারিভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই পরিষদ কার্যালয়ের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান হিসেবে শেষ কর্মদিবসে ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে থাকা এসিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র খুলে নেওয়া হয়। পরে এসব মালামাল তার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি অর্থে কেনা এসি ও অন্যান্য আসবাবপত্র কীভাবে ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া হলো।
এদিকে গত ১৯ আগস্ট ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকারিভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ফোরকান মোল্লা। সরকারি মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসক ফোরকান মোল্লা বলেন, “বিষয়টি আমি জানি। খবর নিয়ে দেখা হবে।”
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল জানান, তিনিও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে যাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন। এগুলো সরকারি সম্পদ নাকি তার ব্যক্তিগত সম্পদ, সেটি যাচাই করা হবে। যদি সরকারি সম্পদ হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের মতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যের পর এখন প্রশাসকের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই। পরিষদের সম্পদ রেজিস্টার ও আগের হিসাবের সঙ্গে বর্তমানে পরিষদে থাকা মালামাল মিলিয়ে দেখলে এসিসহ কোনো আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা সহজেই বেরিয়ে আসবে। তারা সরকারি সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
অপরদিকে জানা গেছে,মোঃ আশ্রাফুজ্জামান খান খোকন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে স্থানীয়দের দাবি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের সময় সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অত্যাচার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়ে ওই সময় এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন দমনে সম্পৃক্ততার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া এবং কারাগারে থাকার বিষয়টি এলাকায় আলোচিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এবং মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের এসিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র খুলে বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আশ্রাফুজ্জামান খান খোকনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদ কোনো চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জনগণের অর্থে কেনা এসি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম জনগণের সেবায় ব্যবহারের জন্য পরিষদে থাকার কথা। তাই মেয়াদ শেষের সময় এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত।
তাদের দাবি, পরিষদের সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে আগের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হোক এবং সরকারি মালামাল সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।



