বরিশাল
বাকেরগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণ করে গোসল করিয়ে বাড়ি পাঠালো বিএনপি কর্মী বেল্লাল
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর চরাদি ইউনিয়নের রানিরহাট এলাকায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বেল্লাল প্যাদা (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশাল বন্দর থানা পুলিশের এসআই রুনু সরদার তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা শাজাহান প্যাদা বাদী হয়ে বেল্লাল প্যাদাকে একমাত্র আসামি করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তার বেল্লাল প্যাদা রানিরহাট এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত তৌজবর আলী প্যাদার ছেলে। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।
শিশুটির বাবা শাজাহান প্যাদা অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার ১২ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ে বাড়ির পাশে নদীর ঘাটের বটতলা এলাকায় গোসল করতে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সে বাড়িতে ফিরে গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানায়।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে, গোসলের সময় প্রতিবেশী বেল্লাল প্যাদা তাকে ফুঁসলিয়ে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে শিশুটি পরিবারের কাছে জানায়। পরে তাকে গোসল করিয়ে ২০ টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির বাবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার বক্তব্য নেয় এবং কথিত ঘটনাস্থল ইটভাটায় যায়।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কথিত ঘটনাস্থল বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন হওয়ায় বিষয়টি বন্দর থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে বন্দর থানা পুলিশের এসআই রুনু সরদার অভিযান চালিয়ে বেল্লাল প্যাদাকে আটক করেন। এদিকে বেল্লাল প্যাদার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকার দাবি করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি।
তাদের ভাষ্য, একের পর এক অভিযোগ ওঠার পরও বেল্লালের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে গুচ্ছগ্রামের আপন জ্যাডাইস এর সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে হলতা বাজারে নিয়ে যায়। হলতা বাজারে বসে তার মাথার চুল কামিয়ে জুতার মালা পড়িয়ে বাজারে ঘোরানো হয়েছিল বলে তারা জানান। এছাড়া নিজের চাচাতো ভাই সুলতান প্যাদার স্ত্রীকে কু-দৃষ্টিতে দেখা, ভাই আজিজ প্যাদার মেয়েকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে রাতে তার কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এবং রানিরহাট বাজারের এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে। তবে এসব পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক মামলা বা আদালতের নথি পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নারীদের প্রতি অসদাচরণ ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বারবার আলোচনায় আসা বেল্লাল এবার একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।
২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জুলহাস বলেন, “শাজাহান প্যাদা তার শিশু মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি মীমাংসা করার মতো নয়। তাই আমি তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেবে—এটাই আমরা চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতেই পারে না। এমন একটি শিশুকে যদি কেউ ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে থাকে, তাহলে তার কোনোভাবেই ছাড় পাওয়া উচিত নয়।”
তাদের দাবি, “বেল্লালের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগের কথা শুনেছি। এবার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতের মাধ্যমে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুক। ভবিষ্যতে যেন কোনো অপরাধী এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়।”
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাঈল হোসেন বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বেল্লাল প্যাদা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



