বরিশাল
বাকেরগঞ্জের চরাদি বাজারে এমবিবিএস পাশ ছাড়াই তিনি বড় ‘চিকিৎসক’
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি বাজারে একটি ওষুধের দোকানের আড়ালে প্যারামেডিকেল কোর্স সম্পন্ন করা এক ব্যক্তি চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন লেখা এবং ছোট-বড় অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার চরাদি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ‘সুপ্রিয়া মেডিকেল হল’ নামে একটি ওষুধের দোকানে রোগীদের ভিড়। দোকানের পেছনের একটি কক্ষে রোগী দেখার জন্য রয়েছে আলাদা চেম্বার এবং রোগী চিকিৎসা নেওযার বেডসহ ছোট একটি হাসপাতালের মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে সক ধরনের রোগের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুভ মালাকার নামে ওই ব্যক্তি একটি স্বল্পমেয়াদি প্যারামেডিকেল কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তবে তিনি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন, প্রেসক্রিপশন লিখছেন এবং ক্ষত সেলাই, ফোঁড়া অপসারণ, নখের অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ছোট অস্ত্রোপচার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সেখানে রোগী অজ্ঞান করার ওষুধ, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, সেলাইয়ের সুতা, কাঁচিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চেম্বারের দেয়ালে চিকিৎসা ফি-সংক্রান্ত একটি তালিকা টানানো রয়েছে। সেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য ১০০ টাকা, পুনরায় পরামর্শের জন্য ৫০ টাকা এবং বাসায় গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হিরা বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ তাঁকে এমবিবিএস ডাক্তার মনে করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু পরে জানতে পারি তিনি শুধু প্যারামেডিকেল কোর্স করেছেন। তবুও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করছেন।”
আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওষুধের দোকানের পেছনে চেম্বার পরিচালনা করছেন। অনেক রোগী তাঁর প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা নিবন্ধন সম্পর্কে না জেনেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্যারামেডিকেল কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁদের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি নির্ধারিত। নিবন্ধিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা, অস্ত্রোপচার করা কিংবা অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ প্রেসক্রাইব করা প্রচলিত আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শুভ মালাকার তিনি বলেন, আমার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অনুমতি আছে। এবং আমি বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেছি। তাই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। পরে সনদ দেখতে চাইলে তিনি
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ডিগ্রি, নিবন্ধন নম্বর ও বৈধতা যাচাই করার জন্যও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর নজরদারির অভাবেই এ ধরনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।



