ঝালকাঠি
বরিশালে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভা রামচন্দ্রপুরের শাহ মাহমুদিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে চলমান দ্বন্দ্ব এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষের আচরণ নিয়ে ক্ষোভের জেরে রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াচুল আমিন জামাল সিকদারের অনুসারীরা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, কলেজের ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইলেন ভুট্টো সাবেক কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম মল্লিককে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন। অপরদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াচুল আমিন জামাল সিকদারের নাম প্রস্তাব করেন। এ নিয়ে কলেজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন জামাল সিকদারকে সমর্থন দিয়েছেন।
এর মধ্যেই কয়েকদিন আগে কলেজ মাঠে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জীবা আমীনা আল গাজীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়ার পর অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরে এমপি তাকে খোঁজ করলে বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
কলেজের এমএলএসএস হায়দার আলী বলেন, দুপুরের দিকে কয়েকজন এসে অধ্যক্ষ স্যারের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। কে বা কারা করেছে আমি জানি না।
শাহ মাহমুদিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক সমরেশ বৈদ্য বলেন, কমিটিতে যেই আসুক আমরা তার সঙ্গে কাজ করব। বিস্তারিত আর কিছু বলতে পারব না।
অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো কমিটির সভাপতি পদের জন্য সাবেক কর কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম মল্লিকের নাম মনোনয়ন দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা পরিষদ প্রশাসক গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াচুল আমিন জামাল সিকদারের নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি সংসদ সদস্য ইলেন ভুট্টোর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি। জেলা প্রশাসক বরাবর এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী সুপারিশ পাঠিয়েছি। এ কারণেই আমার অফিস কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রিয়াচুল আমিন জামাল সিকদার বলেন, প্রিন্সিপাল এই কলেজ পরিচালনার জন্য যোগ্য নন। তিনি কলেজ শেষ করে দিয়েছেন। সংবর্ধনার দিন কিছু না বলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে এমপির সঙ্গে বেয়াদবি করেছেন। তার কক্ষে আমি তালা দেইনি, স্থানীয়রা দিয়েছে। এখন এমপি জীবা আমীনা ও শাহাদাৎ ভাইয়ের কোনো নির্দেশনা ছাড়া এই কক্ষ খোলা যাবে না।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।


