বরিশাল
জনপ্রতিনিধি লিপ্ত জনবিরোধী কাজে!
বরিশালে এবার খোদ জনপ্রতিনিধির বাসা থেকে ডিজেল এবং সরকারি বরাদ্দের চাল উদ্ধার হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে শনিবার মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন ঘরামি ওরফে সুমন মেম্বরের বাসা থেকে ডিজেল ও চাল উদ্ধার প্রশাসনকে যেমন অবাক করে দিয়েছে, তেমনই স্থানীয় নাগরিকসমাজকে সংক্ষুব্ধ করে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধির এমন জনবিরোধী কর্মকান্ডে লজ্জিত ও বিব্রত নেটিজেনরা সমাজমাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন নেতিবাচক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায়।
মুলাদী উপজেলা প্রশাসন বলছে, চরকালেখান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সুমন ঘরামি এবং তার ভাই বাচ্চু আলমের বাসায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তখন সুমনের বাসা থেকে ২০০ লিটার ডিজেল ও এক টন সরকারি বরাদ্দের চাল উদ্ধার করা হলেও তার ভাই বাচ্চুর গোয়ালঘর থেকে আরো ৬০০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। জনপ্রতিনিধি সুমন এবং তার ভাই বাচ্চুর ডিজেল ও চাল মজুতের বিষয়টি আগেই নিশ্চিত হয় ‘জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা’ (এনএসআই)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে মুলাদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরাগ সাহার নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এবং এই ঘটনায় সুমন মেম্বরকে রেহাই দেওয়া হলেও তারই ভাই বাচ্চু আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের হেফাজত থেকে উদ্ধার ৮০০ লিটার ডিজেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করার ঘোষণা দেওয়াসহ চাল মজুতে কোনো অনিয়ম আছে কী না তা খতিয়ে দেখতে চাইছে প্রশাসন। যদিও এই চাল ক্রয় সংক্রান্ত তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, ফলে প্রশাসনের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
স্থানীয় ভোটারেরা বলছেন, মেম্বর সুমনসহ দুই ভাইয়ের হেফাজত থেকে উদ্ধার ডিজেল মজুত করার উদ্দেশ ছিল বাজারে জ¦ালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত অর্থ আয়ের ধান্ধা। কিন্তু গোয়েন্দা তৎপরতায় তাদের সেই অনৈতিক আশা আর পূর্ণ হয়নি, বরং জনপ্রতিনিধির নোংরা রূপ প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ জানিয়েছে, সুমন মেম্বর এবং তার ভাই বাচ্চু আলমের হেফাজত থেকে উদ্ধার ডিজেল জব্দ করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এই ঘটনায় মেম্বরকে কোনোরূপ শাস্তি না দিলেও বাচ্চুকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। এবং বাসা থেকে সরকারি বরাদ্দের চাল উদ্ধারের ঘটনায় মেম্বর সুমন বৈধ কাগজপত্র উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছেন। এই মজুত চালের উৎস্য কি তা খুঁজে দেখতে তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জনপ্রতিনিধি হয়ে সুমন মেম্বর ডিজেল এবং চাল মজুত করে জনবিরোধী কর্মকান্ড তৈরি করেছেন তা চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম সরদারও দাবি করেছেন। একজন ইউপি সদস্যের বাড়িতে সরকারি চাল থাকার কথা নয়, কি ভাবে এবং কোথা থেকে আসল তা প্রশাসনের তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা উচিৎ, মন্তব্য করেন চেয়ারম্যান।
সুমন মেম্বর এবং তার ভাইয়ের হেফাজত থেকে ডিজেল ও চাল উদ্ধারের ঘটনা মুলাদী উপজেলা প্রশাসনকেও ভাবিয়ে তুলেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম সরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, জব্দ করা চালের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাযথ প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া উদ্ধার করা ডিজেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে।
জনপ্রতিনিধির এমন জনবিরোধী কর্মকান্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুমুল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে ঘটনার ভিডিওচিত্র এবং ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সুমন মেম্বরের চৌদ্দগোষ্ঠীকে উদ্ধার করা হচ্ছে। এবং ধান্ধাবাজ-টাউট-বদমাইশ জনপ্রতিনিধিদের চিহ্নিত করে পদ থেকে অপসারণ করাসহ আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ জরুরি বলে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।’


