বরিশাল
জোট ত্যাগে বাধ্য হয়েছে ইসলামী আন্দোলনঃ উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বাবুগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা সভাপতি ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ১১ দলীয় জোট ত্যাগের প্রেক্ষাপট বর্ণনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা রহমতুল্লাহ মাতুব্বরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শামসুল হকের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় ইবতেদায়ী বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক সাইফুল রহিম, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহাব উদ্দিন বাচ্চু, বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রোকন মিয়া প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা রাসেল হোসাইন, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহসান হাবীব বিশ্বাস, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, সহ-সভাপতি বেলাল হোসাইন, ইসলামী যুব আন্দোলনের বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ্, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ। এছাড়াও বাবুগঞ্জ এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামপন্থীদের ভোট একবাক্সে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। সেলক্ষ্যে কওমী ঘরনার নেতাদের নিয়ে প্রথমে ৫ দল গঠন করা হয়। ৬ নম্বর দল হিসেবে সেখানে জামায়াত ইসলামী যুক্ত হয় এবং পরে আরো দুটি দল যোগ দেয়। কথা ছিল আমরা ক্ষমতায় গেলে ইসলামী শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবো। কিন্তু জামায়াত সেই আদর্শগত অবস্থান থেকে সরে গিয়ে প্রচলিত আইনেই রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা দেয়। এছাড়াও জোটের আহ্বানকারী এবং মূল উদ্যোক্তা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে কোনো বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়াই আরো ৩টি দলকে জোটে যুক্ত করে জামায়াতে ইসলামী। তাদের এই একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা, জোটকে অবজ্ঞা এবং ইসলামী শরিয়া আইনের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে জোট ত্যাগ করতে বাধ্য হয় ইসলামী আন্দোলন।’
উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাধ্য হয়েই এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সারাদেশে ২৬৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি ৩২ আসনে যে দল বা প্রার্থী ইসলামের আদর্শের মধ্যে থাকবে তাকে সমর্থন দেবে ইসলামী আন্দোলন। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী হিসেবে আমি আগেও মাঠে ছিলাম, এখনো আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমি ভোট কেনার জন্য কাউকে যেমন টাকা দিতে পারবো না, তেমনি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রের একটি টাকাও নিজের পকেটে ঢুকাবো না। জনগণের টাকা লুটপাট হতে দেবো না। আমি নির্বাচিত হতে পারলে দুর্নীতি, মাদক এবং সন্ত্রাসমুক্ত বাবুগঞ্জ আর মুলাদী উপজেলা বির্নিমাণ করতে চাই।’


