বরিশাল
বার কাউন্সিলে আইনজীবী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বরিশালে সংবাদ ঠেকাতে হুমকি-মামলার আশ্রয়
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি, হুমকি ও মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বরিশাল জেলা আদালতের আইনজীবী ও জামায়াত নেতা মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ২ জুন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন বরিশাল থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক দৈনিক ‘আজকের সময়ের বার্তা’র প্রকাশক ও সম্পাদক এম লোকমান হোসাইন। অভিযোগে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে দৈনিক ‘আজকের সময়ের বার্তা’ পত্রিকায় আইনজীবী মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে “জোরপূর্বক জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি” শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে জাকির হোসেন পত্রিকার এক মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গত ২২ মে সকালে সম্পাদক এম লোকমান হোসাইন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী পেশাগত শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সম্পাদককে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ঘটনার পর নিজের ও সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্পাদক এম লোকমান হোসাইন গত ২৬ মে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১১৮০) দায়ের করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাংবাদিক ও সংবাদপত্রকে চাপে রাখতে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আইনজীবী জাকির হোসেন বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশী দরখাস্ত দায়ের করেন। যা সাইবার পিটিশন মামলা নং- ১২৭/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। তবে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শরমিন জাহান মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সাংবাদিক এম লোকমান হোসাইনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল বা সাইবার অপরাধের কোনো প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পাননি। আদালত অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচনা করে তাকে মামলার দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের এ সিদ্ধান্তের পরও অভিযুক্ত আইনজীবী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে নতুন করে মিথ্যা মামলা দায়ের ও প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রাখেন।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে দেওয়া আবেদনে সম্পাদক এম লোকমান হোসাইন বলেন, “একজন আইনজীবী হিসেবে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে সাইবার সুরক্ষা আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি শুধু পেশাগত নীতিমালার লঙ্ঘন নয়, বরং স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। বর্তমানে আমি এবং আমার সহকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।” আবেদনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনজীবীসুলভ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তপূর্বক মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।



