তালতলী
তালতলীতে দেড় মাসেই কোটি টাকার বেড়িবাঁধে ধস, ১৫ গ্রাম ঝুঁকিতে
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন রোধে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ও জিও ব্যাগে ধস দেখা দিয়েছে। কাজ সমাপ্তির মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই এই ধসের কারণে বাঁধ সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ফেলার কাজটি বাস্তবায়ন করে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স। গত ২১ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবোর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নদীর তীর থেকেই মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করে। এছাড়া জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু না ভরে নামমাত্র বালু ও মাটি ডাম্পিং করায় মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে ধসে গেছে এবং ২০০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন জানান, ভাঙনকবলিত স্থানটি একটি নদীর মোহনা হওয়ায় সেখানে বারবার ভাঙন ধরছে এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল বাঁধের অংশে ধসের কথা স্বীকার করে জানান, এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। অপর দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিওব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষা করা যাচ্ছে না। ওই এলাকায় সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে ডিপিপি পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



