আগৈলঝাড়া
ঘরের মেঝেতে ‘অলৌকিক কবর’, বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসত ঘরের মেঝেতে ‘অলৌকিকভাবে’ জেগে ওঠা জোড়া কবরের রহস্য উদঘাটন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নিজেই কবরগুলো ভেঙেছেন বাকাল ইউনিয়নের সজীব বেপারি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমালের উপস্থিতিতে এসব কথিত কবর ভাঙা হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদ খান অভিযুক্ত সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তিনি স্বীকার করেন ‘অলৌকিকভাবে’ জেগে ওঠা জোড়া কবর কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। নিজের হাতেই বসত ঘরের মধ্যে কথিত এসব কবর তৈরি করেন সজীব।
পরে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে নিজ হাতেই কোদাল দিয়ে ওই কবর আকৃতি ভেঙে ফেলেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড করবে না মর্মে মুচলেকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হয় সজীবকে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সজীব বেপারি স্বীকার করেছেন- গোপনে নিজ হাতেই বসতঘরের মেঝেতে কবর আকৃতি তৈরি করেন। পরে তিনি নিজেই প্রচার করেন ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ‘অলৌকিকভাবে’ একজোড়া কবর জেগে উঠেছে।
ইউএনও বলেন, ‘সজীব দাবি করেছেন- সে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। পরে নিজের আরোগ্য লাভের জন্য নিজ ঘরে কবর তৈরির জন্য স্বপ্ন দেখেন। এ কারণেই তিনি ঘরের মধ্যে দুটি কবর আকৃতি তৈরি করেন। তিনি ভুল করেছেন বলে স্বীকার করেন।
এর আগে সোমবার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বেপারির বসত ঘরের মেঝেতে অলৌকিকভাবে দুটি কবর জেগে উঠেছে বলে প্রচার করা হয়।
এর ছয় মাস আগে থেকেই বাড়িতে ভারে বসে জিনের মাধ্যমে মানুষদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন আব্দুস সালাম বেপারির বড় ছেলে সজীব বেপারি। তার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী একই স্থানে একে একে দুটি কবর জেগে উঠে বলে গ্রামবাসির কাছে প্রচার করা হয়।
এ নিয়ে সজীব দাবি করেন, ঘরের মধ্যে জেগে উঠা কবর দুটি ‘বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) ও খাজা মাইনউদ্দিন চিশতী (রা.)। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে তার বাড়িতে। এমনকি প্রতি সোমবার কথিত কবর এবং মাজার ঘিরে ওই বাড়িতে ওরস মাহফিল, আধ্যতিক গানবাজনা হতো।



