আন্তর্জাতিক
ভারতে ভোটাধিকার নিয়ে উত্তাল রাজপথ, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে জেন-জির বিক্ষোভ
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয় পুলিশ। Reuters ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিক্ষোভের ডাক দেয় তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে দলটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে। সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতার আটকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বন্ধ, বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনর্বহাল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা যাচাই ও অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া।
আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন বন্ধ, মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং বিক্ষোভস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের অভিযানে শত শত বিক্ষোভকারী আটক হয়েছেন বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
বিক্ষোভকারীরা পরিস্থিতিকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন, বিরোধী নেতাদের আটক এবং প্রতিবাদে বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে ভারতের নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


