পটুয়াখালী
ইলিশ রক্ষায় জনবল-বোট সংকট, অসহায় মৎস্য বিভাগ
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনায় জনবল, বোট ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সংকটে পড়েছে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা মৎস্য বিভাগ। গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক বোট ও জনবল না থাকায় কার্যকরভাবে টহল পরিচালনা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় দুমকি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা-২০২৬-এ তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
সভায় মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার অভিযানের জন্য বরাদ্দ কম। গত বছর কয়েকটি প্রকল্পের সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও এবার সেই সুযোগ নেই।
তিনি জানান, গত বছর দুটি বোট ভাড়া করে পাঙ্গাশিয়া-আলগী ও পাতাবুনিয়া এলাকায় টহল পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার দুটি বোটের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে। অতিরিক্ত একটি বোটের জন্য জেলা পর্যায়ে রিক্যুইজিশন দেওয়া হয়েছে।
মাহফুজুর রহমান বলেন, উপজেলার বিস্তৃত নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ জন জনবল প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অনেক কম। একই সঙ্গে থানা থেকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহনেরও সংকট রয়েছে।
নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে নামা জেলেদের নৌযানের তুলনায় অভিযানে ব্যবহৃত বোটের সক্ষমতাও কম বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মৎস্য বিভাগের ব্যবহৃত বোট সাধারণত ১০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও অনেক জেলের বোট ৩০ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন। ফলে তাদের ধাওয়া করে আটক করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, “আমাদের যা লজিস্টিক আছে, তা নিয়েই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে শুধু মৎস্য বিভাগ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এই অভিযান সফল করা সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং সচেতনতাও প্রয়োজন।”
জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবার শতভাগ তালিকাভুক্ত জেলের জন্য সরকারি চাল সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ১ হাজার ৬০০ জেলে এ সহায়তার আওতায় থাকলেও এবার প্রায় ২ হাজার জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সভায় দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম উদ্দিন বলেন, একই সময়ে উপজেলার ১১টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নদীতেও ইলিশ রক্ষা অভিযানে পুলিশ ফোর্স দিতে হবে। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে দুই ধরনের দায়িত্ব সামাল দিতে পুলিশকেও বেগ পেতে হবে।
এ সময় উপজেলার একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। গত বছর কয়েকটি এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় কর্মকর্তাদের ওপর জেলেদের হামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় মা ইলিশ সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি বন্ধে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জেলেদের সচেতন করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ, জনপ্রতিনিধি, প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি এবং উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


