বরিশাল
সহকর্মী ও স্বজনদের অশ্রুজলে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিকে শেষ বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক : একসময় সংবাদকক্ষে সরব কণ্ঠ, সহকর্মীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আড্ডা- সবই ছিল সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির পরিচয়ের অংশ। শনিবার সেই পরিচিত মানুষটিই ছিলেন নীরব, নিথর।
ফুলে ফুলে ঢেকে দেওয়া মরদেহ ঘিরে বরিশাল প্রেসক্লাবে জড়ো হন সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অশ্রুসিক্ত পরিবেশে শেষবারের মতো প্রিয় সহকর্মীকে বিদায় জানান তারা।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের বরিশাল কার্যালয় থেকে পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে তার মরদেহ নেওয়া হয় বরিশাল প্রেসক্লাবে।
সেখানে সিটি প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন, প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সহকর্মীরা ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
দীর্ঘদিন যে প্রেসক্লাব ছিল তার সাংবাদিকতা জীবনের পরিচিত ঠিকানা, সেখানেই শেষবারের মতো তাকে ঘিরে দাঁড়ান সহকর্মীরা।
পরে মরদেহ নেওয়া হয় নগরীর কালীবাড়ি রোডের বাসায়। সেখানে স্ত্রী প্রিয়াংকা, একমাত্র মেয়ে প্রকৃতি ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
এরপর শেষকৃত্যের জন্য মরদেহ নেওয়া হয় নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে। স্বজন ও সহকর্মীদের উপস্থিতিতে সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
সাংবাদিকতা জীবনের দীর্ঘ সময় পুলক চ্যাটার্জি কাজ করেছেন দৈনিক সমকালে। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি বরিশাল ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর কর্মহীন ছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে স্ত্রী, মেয়ে, ভাই, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে পৃথক পাঁচটি চিরকুট রেখে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ও পরিবার।
এসব চিরকুটে ব্যক্তিগত নানা বিষয় ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার কিছু অনুরোধের কথা উল্লেখ ছিল।
দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরী বলেন, পুলক দাদা নিয়মিত অফিসে আসতেন। সেখানে পত্রিকা পড়তেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। অফিসের একটি বিকল্প চাবিও তার কাছে ছিল। শুক্রবার দুপুরেও তিনি ফোন করেছিলেন। পরে সন্ধ্যায় অফিসে গিয়ে তাকে আর জীবিত পাওয়া যায়নি।
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, পুলক দাদার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। তার রেখে যাওয়া চিরকুটেও পরিবারের প্রতি বিভিন্ন অনুরোধের কথা ছিল।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।



