ভোলা
স্লুইসগেট অকেজো, টানা বর্ষণে পানির নিচে মনপুরা
টানা তিন দিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে ভোলার মনপুরা উপজেলা কার্যত পানির নিচে চলে গেছে। জলাবদ্ধতায় পাঁচ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, ফসলের মাঠ ও বসতভিটা তলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর অকেজো পড়ে থাকা স্লুইসগেট এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কাজ হারিয়ে চুলা জ্বলছে না শত শত শ্রমজীবী পরিবারের, আর পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ সময় পার করছেন উপকূলের বাসিন্দারা।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়ে যায়। পানি জমে যাওয়ায় বহু এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারে চুলা জ্বলছে না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হলেও জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ফলে ঘরবাড়ি, উঠান ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। একইভাবে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরযতিন এবং সোনারচরের পূর্ব ও পশ্চিমাংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় ও কাউয়ারটেক এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে।
হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা সফিজল, হেলাল ও ইউসুফ, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রাকিব, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের সজীব ও হাসান এবং মনপুরা ইউনিয়নের নাহিদ ও মোস্তফা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই চারপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তাদের দাবি, উপজেলার কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় খাল দিয়ে দ্রুত পানি নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি লোকালয়ে আটকে থেকে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, টানা বর্ষণের কারণে মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্লুইসগেট মেরামতসহ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে।



