ঝালকাঠি
কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মারধরের অভিযোগ, পাল্টা দাবি জমিজমা বিরোধ
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলী এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির মহিলা দলের এক সদস্যকে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ঘটনাটি দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের, আর কুপ্রস্তাবের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ভীমরুলী বাজার এলাকায় ভুক্তভোগী সোনালী মৈত্রের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সোনালী মৈত্রের অভিযোগ, অভিযুক্ত সমরেশ মৈত্র দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় শুক্রবার হঠাৎ তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে লাথি-ঘুষির পাশাপাশি লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ফোলা জখমের সৃষ্টি হয়েছে।
সোনালী মৈত্র আরও দাবি করেন, এর আগেও সমরেশ মৈত্রের বড় ভাই অনিমেষ মৈত্র তাকে ও আমার স্বামীকে মারধর করেছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী পরিতোষ মৈত্র বলেন, “সমরেশ দীর্ঘদিন ধরে আমার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন জানান, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তাদের ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সমরেশ মৈত্র মুঠোফোনে বলেন, সোনালীদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আজকের ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো এবং সে আমার চাচাতো ভাইয়ের বউ।
ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার পর আহত সোনালী মৈত্রকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য ঘটনায় উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।



