পিরোজপুর
মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, প্রকাশ্যে ঘুরছেন চিহ্নিত আসামি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়নের হলতা মাতুব্বর বাড়ি সৌদি প্রবাসী মুরাদ হোসেনের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় মৃত্যুঞ্জয় নামে চিহ্নিত এক আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুঞ্জয় মঠবাড়িয়া পৌর শহরের স্বর্ণ প্রভা জুয়েলারী দোকানের স্বত্বাধিকারী এবং মিরুখালী বাজার এলাকার নির্মল কর্মকারের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৃত্যুঞ্জয় স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে ডাকাতির মালামাল কম দামে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে পরোক্ষভাবে ডাকাতদের অপরাধে সহায়তা করে আসছেন।গত বছরের ৮ এপ্রিল ওই প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আলামিন ওরফে কাদের সহ এ পর্যন্ত ১৬ জন ডাকাত গ্রেপ্তার হয়।এরমধ্যে ডাকাত আলামিন (কাদের) বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে বাচ্চু হাওলাদার একটি স্বর্ণের চেইন, ২টি স্বর্ণের আংটি ও ১ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল বিক্রি করতে আসেন।তখন বাচ্চু হাওলাদারের সঙ্গে ইলিয়াস,রাজু,মিরাজ উপস্থিত ছিল।বাচ্চু আমাকে বলে যে,স্বর্ণগুলো জুয়া খেলার।তখন আমি কম দামে স্বর্ণগুলো তাদের কাছ থেকে কিনে নেই। এরপর আমি মঠবাড়িয়া বাজারে মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে কম দামে বিক্রি করে দেই।এর কিছুদিন পরে বাচ্চু বলে-স্বর্ণগুলো ডাকাতির মাল ছিল। এরপর আমি আত্মগোপনে চলে যাই।পরে জানতে পারি-রাজু,বাচ্চু,ইলিয়াস ও মিরাজ ডাকাতদলের সদস্য।’
দুর্ধর্ষ ওই ডাকাতির মূল হোতা ইলিয়াস ও কাদের। ইলিয়াস দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে বের হলেও ডাকাত কাদের এখনও জেল হাজতে রয়েছে। কাদের ডাকাতির মালামাল কোথায় বিক্রি করেছে তা পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ২৪ মে (রবিবার) রিমান্ড শুনানি হয়।কিন্তু ইতিপূর্বে জবানবন্দি প্রদান করায় বিজ্ঞ আদালত এদিন ওই আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। পূর্বের জবানবন্দি বহাল থাকায় মৃত্যুঞ্জয় এখন ডাকাতি মামলার আসামি হলেও সশরীরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সহ প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ডাকাতদল ঘটনার দিন ওই প্রবাসীর বিল্ডিংয়ের গ্রীল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে পিস্তল ও রামদা সহ মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে যৌথ পরিবারের সকল সদস্যদের পর্যায়ক্রমে জিম্মি করে তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।পরিবারের কতক সদস্যকে গামছা ও ওড়না দিয়ে হাত পা বেঁধে খাটের ওপর ফেলে রাখে।ডাকাতদল আলমিরা সহ সবকিছু তছনছ করে নগদ টাকা,২৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ২টি স্মার্ট ফোন ও ১টি ল্যাপটপ সহ ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত বছরের ১০ এপ্রিল মুরাদ হোসেনের ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল সম্প্রতি বদলি হওয়ায় বর্তমানে এসআই জাফরুল্লাহ মামলাটি তদন্ত করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ডাকাতির মালামাল কেউ ক্রয় করে থাকলে ৪১২ ধারা অনুযায়ী তিনিও ডাকাত চক্রের সহযোগী হিসেবে গন্য হবেন।এক্ষেত্রে ডাকাতি মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান, মৃত্যুঞ্জয় জুয়াখেলার স্বর্ণ কিনছে না ডাকাতির স্বর্ণ তা স্পষ্ট হয়ে বিজ্ঞ আদালতে খুব শীঘ্রই অভিযোগ পত্র (চার্জ শীট) দাখিল করা হবে।



