গতকাল ১৫ মে (শুক্রবার) বরিশাল নগরীর বাজার রোডের সাগর গলির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাওন ইসলাম (৩৭) বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বাদী শাওন ইসলাম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রুবি তার ছেলে ও ছেলের স্ত্রী ওই বাসায় থাকবেন বলে শাওনের বাসার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার পরপরই তিনি ঢাকা চলে যান। এরপর তার ছেলে পরিচয়ে এক পুরুষ এবং এক মহিলা ওই বাসায় বসবাস শুরু করেন।
শাওন ইসলাম বলেন, ওই পুরুষ ও মহিলার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় একাধিকবার তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের রুবির ছেলে ও ছেলের স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। ভাড়া নেওয়ার পর থেকে কখনও ওই পুরুষ, আবার কখনও রুবি নিজেই বিকাশের মাধ্যমে বাসাভাড়া পরিশোধ করতেন।
তিনি আরও জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে ওই পুরুষ ও মহিলা বাসায় আসা বন্ধ করে দিলে তার সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তারা আসলে রুবির ছেলে বা ছেলের স্ত্রী নন।
সর্বশেষ গত ১৪ মে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রুবি ওই বাসায় এলে শাওন ইসলাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করেন। এ সময় তার মেয়ে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। পরে শাওন ইসলাম জানতে চান, কীভাবে অপরিচিত ব্যক্তিরা তার বাসার চাবি পেয়েছিল। এ বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রুবিকে থানায় নিয়ে যায়।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবিকে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বাড়ির মালিক শাওন ইসলাম বাদী হয়ে রুবির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ গ্রহণের পর একই দিন মামলাটি নিয়মিতভাবে রেকর্ডভুক্ত করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, রুবি অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।



