বরিশাল
সেলিনা বেগমের বহিষ্কার দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে তারা ৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অভিযোগপত্রে মোট ২৩ জন খেলোয়াড় স্বাক্ষর করেছেন।
লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও অনুশীলন কার্যক্রমে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। অনুশীলনের সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাঠে উপস্থিত না থাকা, খেলোয়াড়দের খোঁজখবর না নেওয়া এবং প্রশাসনিক সহায়তায় অবহেলার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন নথিপত্র ও ফরম পূরণের কাজে গাফিলতি, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করার মতো ঘটনাও নিয়মিত ঘটেছে। খেলোয়াড়দের দাবি, জার্সি সংগ্রহসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে অফিসে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে নথিপত্রে ত্রুটির কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দল। এ ঘটনায় খেলোয়াড় ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমকে দায়ী করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রতিবছর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ভালো ফলাফল অর্জন করে আসলেও এবার প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে দল অংশগ্রহণের সুযোগ হারিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, সেলিনা বেগমের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এছাড়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হলেও সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন খেলোয়াড়রা। একই সঙ্গে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পরিচর্যা ও খেলোয়াড়দের সহায়তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারীর বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনে অনীহার অভিযোগ আনা হয়।
খেলোয়াড়রা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো— ১. সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের স্থায়ী বহিষ্কার। ২. সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর দপ্তর পরিবর্তন। ৩. অভিজ্ঞ শারীরিক প্রশিক্ষক নিয়োগ।
অভিযোগকারী একাধিক খেলোয়াড়রা বলেন, “সেলিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি নিয়মিত অফিস ফাঁকি দেন। সাইবার মামলায় জেল খাটার পরও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি আমরা খেলায় অংশ নিতে না পারার পেছনেও তার অবহেলা দায়ী।”
এদিকে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. আতিকুল্লাহ ফরাজী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “অভিযুক্ত সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ পেয়েছি, যার তদন্ত চলমান রয়েছে। খেলাধুলা সংক্রান্ত বিষয়েও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সেলিনা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।



