বরিশাল
ড্রেনবিহীন বেলতলা-খেয়াঘাট ভাঙা সড়কে মরণফাঁদ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতলা পুল থেকে কীর্তনখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়, আর এর প্রধান কারণ সড়কের পাশে কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা।
এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চরবাড়ীয়া, পলাশপুর, চরমোনাই, মেহেন্দীগঞ্জ, সাহেবের হাটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি সড়কের ওপর জমে থাকে এবং পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় ধীরে ধীরে রাস্তার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ, যা এখন মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলেই পুরো সড়ক পানিতে ডুবে যায়। কোথায় গর্ত আর কোথায় সমান রাস্তা, তা বোঝার উপায় থাকে না। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যাদের মধ্যে শিক্ষার্থীও রয়েছে। শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সর্বশেষ গত ৬ তারিখ সোমবার দুপুরে একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়ি সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে একটি সিলিন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গ্যাস লিক হয়ে বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়। আশপাশে মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিকল্পনাহীনভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া রাস্তা নির্মাণ করায় সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে। তারা বলছেন, প্রতি বছরই একইভাবে রাস্তা তৈরি হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান নয়।
স্থানীয়রা দ্রুত এই সড়কের টেকসই সংস্কার এবং যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ড্রেন নির্মাণ ছাড়া শুধু রাস্তা সংস্কার করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবই এই সড়কের স্থায়ী সমস্যার মূল, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে চরবাড়ীয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, “ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমরা বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি, এলাকাবাসীও বারবার অভিযোগ করেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জনগণের চলাচলের জন্য এই রাস্তার দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বরিশালের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তুষার আহমেদ বলেন- আমরা বিষয়টি দেখছি।



