বরিশাল
বরিশালে বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বামীর সাথে রহস্যের ছলে স্ত্রী বিএনপির এক নেতার পক্ষে সাটানো ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা পোস্টারের আংশিক অংশ ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তিন দফায় হামলা ও পাল্টা হামলায় নারীসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
এসময় পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।আহতদের মধ্যে আটজনকে উপজেলা হাসপাতালে ও বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুইপক্ষের পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী বাজার সংলগ্ন এলাকায়।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সূত্রে জানা গেছে, পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল সিকদারের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার বেল্লাল শিকদার (২৮) তার স্ত্রী ইলমা ইয়াসমিনকে (২৪) নিয়ে দাওয়াত খাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে পিঙ্গলাকাঠী বাজার সংলগ্ন তার মামা আলম শিকদারের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে বেল্লালের স্ত্রী রহস্যের ছলে রাস্তার পাশের টিনের বেড়ার সাথে লাগানো স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের পক্ষে ঈদ-উল ফিতরের একটি শুভেচ্ছা পোস্টারের আংশিক ছিঁড়ে স্বামী বেল্লালের গাঁয়ে ছুড়ে মারেন।
এসময় সেখান দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন নলচিড়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা। তিনি পোষ্টার ছেড়ার বিষয়টি দেখতে পেয়ে ওই দম্পতির কাছে পোষ্টার ছেড়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ওই দম্পত্তি বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা সত্বেও সোহেল তাদের সাথে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন। একপর্যায়ে যুবদল নেতা সোহেল উত্তেজিত হয়ে বেল্লালের স্ত্রীকে মারধর জন্য উদ্যত হলে বেল্লাল ও সোহেলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ইঞ্জিনিয়ার বেল্লাল শিকদার জানান, ওই ঘটনার জেরধরে বিকেলে যুবদল নেতা সোহেল মোল্লার নেতৃত্বে ১০/১২টি মোটরসাইকেলযোগে যুবদলের ২০/২৫ জন নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, রামদা, লোহার রড নিয়ে তার (বেল্লাল) মামা বিএনপি কর্মী আলম শিকদারের পিঙ্গলাকাঠী বাজার সংলগ্ন বাড়িতে হামলা চালায়।
পরে নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধাারণ সম্পাদক হারুন শিকদারের নেতৃত্বে বাড়ির ও বাজারের লোকজন পাল্টা হামলা চালালে ওই বাড়ির সামনের রাস্তায় ওপর উভয়পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন নারীসহ উভয়পক্ষের ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে সোহেল মোল্লার সমর্থকরা পাঁচটি মোটরসাইকেল ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসার পর হারুনের সমর্থকরা ওই মোটরসাইকেলগুলো ভাঙচুর করে। হামলায় যুবদল নেতা সোহেল মোল্লার সমর্থক নলচিড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সুজন আকন, যুবদল কর্মী আজিজুল সরদার, সেলিম সরদার, আলামিন হাওলাদার, মনির খলিফা, টিপু সুলতান।
বিএনপি নেতা হারুন শিকদারের সমর্থক যুবদল কর্মী শহিদুল শিকদার, আজিজুল শিকদার, ছুটিতে বাড়িতে আসা সেনাসদস্য মেহেদী হাসান, তাসলিমা বেগম, ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক শুভ শিকদার, যুবদল কর্মী ইঞ্জিনিয়ার বেল্লাল শিকদার, মনজিলা বেগম, ইলমা ইয়াসমিন, জিয়াসমিন বেগম, শারমিন আক্তার, শেফালী বেগম, ছাত্রদল কর্মী আজিজুল শিকদারসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে গুরুত্বর আহত যুবদল কর্মী আজিজুল সরদার, সেলিম সরদার, শহিদুল শিকদার, তাসলিমা বেগম ও আজিজুল শিকদারকে বরিশাল শেবাচিম হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নলচিড়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন সিকদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে শুক্রবার সকালে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, খবরপেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ভাঙচুর করা মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।