আমতলি
বরগুনায় ইটভাটার মাটি পরিবহন করতে খালে বাঁধ, হুমকিতে চাষাবাদ
বরগুনার আমতলী উপজেলা সদর ইউনিয়নের উত্তর টিয়াখাল এলাকার একটি প্রবহমান খালে ইটভাটার মাটি পরিবহন করতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মেসার্স তৌহিদ ব্রিকস (এমটিবি) নামের একটি ইটভাটার মাটি পরিবহন করতে ভাটার পাশে খালে বাঁধ দেওয়া হয়। এতে বর্ষা মৌসুমে এলাকার ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ভোগান্তি পোহান আশপাশের লোকজন।
স্থানীয় লোকজন জানান, খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে উত্তর টিয়াখালী, খুড়িয়ার খেয়াঘাট ও ছুড়িকাটা গ্রামের প্রায় চার শ একর ফসলি জমির চাষাবাদ হুমকিতে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় বোরো আবাদ ও রবি শস্যের আবাদ করা যাচ্ছে না। আবার বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার কারণে আউশ ও আমন আবাদ ব্যাহত হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৬৮ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে আমতলী উপজেলা সদর ইউনিয়নের উত্তর টিয়াখালী গ্রামের বগা খাল খনন করা হয়েছিল।
উত্তর টিয়াখালী গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে সময়মতো পানি না পাওয়ায় বোরো ও আমন ধান আবাদ করতে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে মেসার্স তৌহিদ ব্রিকস ইটভাটার মাটি পরিবহনের জন্য ভাটার দক্ষিণ পাশের প্রবহমান খালে বাঁধ নির্মাণ করার সত্যতা পাওয়া গেছে। খালের পানি যাওয়া-আসার জন্য জন্য ছোট সিমেন্টের পাইপ দেওয়া হয়েছে। তবে সেই পাইপ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ হচ্ছে না।
ইটভাটাটির ব্যবস্থাপক রাজিব হোসেন বলেন, খাল তাঁদের রেকর্ড করা জমিতে। তাঁরা কোনো সরকারি খালে বাঁধ দেননি। এ ছাড়া ওই স্থানে বাঁধ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন মৃধা।
আমতলী উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আমতলীতে ২৬টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে ১৮টি ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
খালে বাঁধ দেওয়ার অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলী সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মৃধা বলেন, উত্তর টিয়াখালী গ্রামের একটি ইটভাটার মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে ভাটার মালিক তার কাছে বাঁধ দেওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দেন। তবে তাঁরা খালে বাঁধ দেওয়ার আগে সেখানে সিমেন্টের পাইপ বসান।
মেসার্স তৌহিদ ব্রিকসের মালিক মো. বশির উদ্দিন খান বলেন, ইটভাটার মাটি সহজে পরিবহনের জন্য ভাটার খুব কাছে খালে বাঁধ দিয়েছেন। তবে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য পানির একটি পাইপ দেওয়া আছে। তিন থেকে চার মাসের জন্য এই বাঁধ দেওয়া হয়েছে। আগামী চৈত্র মাসে এই বাঁধ আবার কেটে দেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম আলম বলেন, প্রবহমান খালে বাঁধ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনটা হলে সেখানে অভিযান চালানো হবে এবং ইটভাটামালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’