বরিশাল চাঁদমারী-ত্রিশগোডাউন এলাকায় চুরির হিড়িক, আতঙ্কে এলাকাবাসী

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:০৭, নভেম্বর ০৮ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর চাঁদমারী, স্টেডিয়াম কলোনি, বিআইপি সড়ক ও ত্রিশগোডাউন এলাকায় চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিদ্যুতের মিটারের তার, দোকানপাট, জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এমনকি বাসাবাড়িতেও ঘটছে চুরি। গত কয়েক দিনে এসব এলাকায় অন্তত এক ডজনেরও বেশি চুরির খবর পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ ৮ নভেম্বর (রোববার) গভীর রাতে নগরীর বিআইপি শাখা সড়কের নাহিদ ম্যানসনে বিদ্যুৎ সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় এক বাসিন্দার সন্দেহ হলে তিনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখতে পান, দুই ব্যক্তি ভবনের বিদ্যুতের মিটারের তার কেটে নিচ্ছে। পরে লাইট জ্বালিয়ে চিৎকার করলে চোরেরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় প্রায় ১২টি মিটারের কয়েক লাখ টাকা মূল্যের তার কেটে রোল বান্ডিল করে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এর আগে ত্রিশগোডাউন এলাকায় বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের মিটারের তার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চাঁদমারী এলাকায় আইয়ুব আলীর দোকান, নাহিদের দোকান, রাজুর দোকানসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মাদ্রাসা সড়কের কয়েকটি ভবন থেকেও বিদ্যুতের মিটারের তার কেটে নিয়ে গেছে চোরচক্র।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের পর দিন একই এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের তৎপরতা থামছে না। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও তৎপরতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে পেশাদার ও চিহ্নিত চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে নানিবুড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিহির দাস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন চোরকে আটক করা হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে পুলিশের সর্বোচ্চ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিআইপি সড়কের নাহিদ ম্যানসনের ঘটনায় আজই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, চোরদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে অপারগতা প্রকাশ করায় আসামিদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে তারা সহজেই জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।