ভোলায় ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক, টাকার বিনিময়ে স্ত্রীকে অন্য পুরুষের কাছে পাঠাতেন স্বামী!

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৩৪, নভেম্বর ০৭ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ২৬ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। তবে আটকের পর ওই দম্পতির ভিডিও বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভিডিও বক্তব্যে স্ত্রী নাসরিন দাবি করেছেন, অর্থের বিনিময়ে তিনি অন্য পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতেন। এ কাজে স্বামীরও সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে তাঁর ও স্বামীর ভিডিও বক্তব্যে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন স্লুইসগেট-সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশের নদীর তীর থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসরিন (১৮) এবং তাঁর স্বামী মিজান (৩০)। মিজানের স্থায়ী ঠিকানা উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় রিপন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি ফোন করে নদীর তীরে মাদকসহ দুজনকে আটকে রাখার খবর দেন। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটে পুলিশের একটি দল থানার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয় এবং ৮টা ২০ মিনিটে সেখানে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি চালিয়ে নাসরিনের ওড়নার মধ্যে লুকানো একটি কালো ব্যাগ থেকে সবুজ পলিথিনে মোড়ানো ২৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ২ দশমিক ৬ গ্রাম। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ হাজার ৪০০ টাকা। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দতালিকা তৈরি করে ইয়াবা জব্দ করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য দুটি বড়ি আলাদা করে রাখা হয়েছে।

এদিকে আটক নাসরিনের ভিডিও বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন দুই ব্যক্তির সঙ্গে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চুক্তি করেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে এ ধরনের কাজে যুক্ত ছিলেন। স্বামী মিজানের ভিডিও বক্তব্যেও অর্থের বিনিময়ে স্ত্রীকে দিয়ে এ ধরনের কাজ করানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে অর্থের বিনিময়ে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের দায়ের করা মামলার এজাহারে কোনো উল্লেখ নেই। বিষয়টি ওই দম্পতির ভিডিও বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামের বক্তব্য নিশ্চিত করে যুক্ত করতে হবে। প্রস্তাবিত বক্তব্য: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার তফসিলের ১০(ক) অনুযায়ী ৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।