সরকারি হালট দখল করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, অবরুদ্ধ সাংবাদিক পরিবার

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:২৯, নভেম্বর ০৭ ২০২৬ মিনিট

পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সিকদার এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে একটি সাংবাদিক পরিবার। সরকারি জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ২ নম্বর লেবুখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামাল সিকদারের পরিবারের অভিযোগ, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি রেকর্ডীয় হালটের প্রায় ২৯ শতক জমি পারিবারিক কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ হালটটি দীর্ঘদিন ধরে কার্তিকপাশা ও আঠারগাছিয়া গ্রামের মানুষের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সরকারি জমিতে নির্মাণকাজের বিষয়টি জানার পর ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই দেয়াল নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনার সময় সাংবাদিক কামাল সিকদার পটুয়াখালীতে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে দুমকি থানার এসআই শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। কামাল সিকদারের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দেয়াল নির্মাণের কারণে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। কামাল সিকদার বলেন, ‘সরকারি হালট দখল করে দেয়াল নির্মাণ করায় আমাদের পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা চাই না। সরকারি জমি উদ্ধার করে মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার দাবি জানাচ্ছি।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল জব্বার সিকদার ও তাঁর ভাই আবু সালেহ খোকন দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি তাঁদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবরস্থানের অংশ। কবরস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। জায়গাটি সরকারি হালট কিংবা খাসজমি হয়ে থাকলে ভূমি প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও জানান তাঁরা। এদিকে, জমিটির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি রেকর্ড, মৌজা নকশা ও সরেজমিন জরিপের মাধ্যমে জমিটির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করা জরুরি। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হালট দখলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে ভূমি প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারি রেকর্ডে হালট হিসেবে থাকা জমির সীমানা কীভাবে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানার মধ্যে যাচ্ছে, আর ভূমি কর্মকর্তার আপত্তির পরও নির্মাণকাজ চলার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।