প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা-চাকরি, সহকর্মীর সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়ে কারাগারে শিক্ষিকা
প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সহকর্মী শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বরিশালের মুলাদীর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। স্বামীর অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আদালত ওই শিক্ষিকা ও তাঁর কথিত প্রেমিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মনির হোসেন চৌধুরী জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আসোলী সন্তোষপুর গ্রামের সুলকান গিয়াস উদ্দীনের ছেলে। ২০১২ সালে তিনি মুলাদী উপজেলার ডিক্রীরচর গ্রামের শাহে আলম সিকদারের মেয়ে নাসরিন সুলতানাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর নাসরিনের উচ্চশিক্ষার আগ্রহ দেখে তাঁকে সহযোগিতা করেন স্বামী মনির। প্রবাসে থেকে স্ত্রীর পড়াশোনা ও যাবতীয় খরচ বহন করেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের বেগম সামছুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান নাসরিন।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে সহকর্মী শিক্ষক বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের তারিকুল ইসলামের সঙ্গে নাসরিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালে তারিকুলকে ভোলার একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন মনির। গত জুলাইয়ে মনিরকে তালাক দিয়ে তারিকুলকে বিয়ে করেন নাসরিন। এ সময় মনিরের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই মনির হোসেন বরিশালের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাজিরহাট) আমলি আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা, তারিকুল ইসলাম ও তাঁদের সহযোগী জাহেদুল ইসলামকে আসামি করা হয়।
মামলায় গত সোমবার সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা ও তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে তাঁদের কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মনির হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাঁর প্রবাসের উপার্জিত টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন নাসরিন। বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান তিনি।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা আদালতে হাজির হয়েছিলেন। পরে তিনি কারাগারে যান। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলা নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
