তিন বছরের ব্যবধানে পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজ ১১১ থেকে কমে ২৯টি

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৫১, নভেম্বর ০২ ২০২৬ মিনিট

পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এ বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ এলেও সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এসেছে মাত্র ২৯টি। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে জাহাজের সংখ্যা কমেছে ৮২টি। বন্দরের নাব্যতা সংকট, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকে এর অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে পায়রা বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ আসে। পরের অর্থবছর ২০২৩–২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩টিতে। তবে এরপর থেকেই জাহাজের আগমন কমতে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৮৫টি এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ বন্দরে আসে। প্রতিবেদনে পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাবনাবাদ চ্যানেলের পলিপ্রবণতা, নাব্যতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, পণ্য খালাসে শুল্কায়ন জটিলতা এবং সড়ক যোগাযোগের দুর্বলতা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাবনাবাদ চ্যানেল অত্যন্ত পলিপ্রবণ হওয়ায় এর নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে চ্যানেলটিতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, পণ্য ছাড়করণের কার্যক্রম শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে কাস্টম হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপিং লাইনগুলো সম্পৃক্ত। বর্তমানে পায়রা বন্দরের ব্যবহারকারীদের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বরিশাল ও খুলনা কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে বন্দরসংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকেও বন্দরের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দুই লেনের। ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-পায়রা রুটে ছয়টি স্থানে টোল আদায়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়ছে, যা বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় কমিটির পক্ষ থেকে সব কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সতর্কতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যবধান, বিদ্যমান সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোর বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে দেশের ১৭টি স্থলবন্দরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৬ টন পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে রপ্তানি হয় ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ টন পণ্য। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টনে। তবে এ সময়ে রপ্তানি কমে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ২২৩ টন পণ্য আমদানি এবং ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৮ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, কমিটির সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, মো. নাজমুল হুদা ও আবদুল হান্নান মাসউদ।