বরিশালের ৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৪২, নভেম্বর ০২ ২০২৬ মিনিট

সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধের দাবিতে বরিশালের অভ্যন্তরীণ ছয়টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন বাস মালিক ও শ্রমিকেরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে এসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে ডিসি রোড, লক্ষ্মীপাশা, লাহারহাট, কাটাদিয়া, হলতা ও সিদ্দিক বাজার রুটে প্রায় ৭০টি বাস চলাচল করে। এসব রুটে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী মোটরসাইকেল ও রিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে তাঁদের সময় ও অর্থ—দুই-ই বেশি ব্যয় হচ্ছে। যাত্রী সোহরাব হোসেন হাওলাদার বলেন, তিনি বরিশাল থেকে নেহালগঞ্জ যাবেন। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে যেতে তাঁর কাছে বাড়তি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। আমেনা খাতুন নামের আরেক যাত্রী বলেন, গন্তব্যে যাওয়ার জন্য টার্মিনালে এসে বাস চলাচল বন্ধ দেখতে পান। এখন বিকল্প যানবাহনে যেতে হলে তাঁকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) চরকাউয়া বাস টার্মিনালে বাস, অটোরিকশা ও ইজিবাইক মালিকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বাস মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচলের কারণে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষসহ বিভিন্ন ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. স্বপন হোসেন বলেন, সোমবার সকাল থেকে তাঁরা বাস চালানোর চেষ্টা করলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকচালকেরা বাধা দিচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশাচালকদের দাবি, তাঁরা নিয়ম মেনেই যানবাহন চালাচ্ছেন। বাসচালকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে কয়েক দিন পরপর তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছেন। এদিকে, দুই পক্ষের বিরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়লেও বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সমাধানের খবর পাওয়া যায়নি। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে ছয়টি রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।