পিটিয়ে শ্রমিকের দুই হাত ভেঙে ফেলার অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:২৩, অক্টোবর ৩১ ২০২৬ মিনিট

  • থানায় লিখিত অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের বাকেরগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক অটোরিকশা শ্রমিককে পিটিয়ে দুই হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। কথিত বিএনপি কর্মী জামাল পালোয়ানের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর দাড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে একই গ্রামের নুরু মোল্লা অটোরিকশা শ্রমিক মো. মিরাজ ফকিরকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে জামাল পালোয়ানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই জামাল পালোয়ান, সিরাজ আকন, ইউনুস দেওয়ান, নুরু মোল্লাসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তারা মিরাজকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন। এ অভিযোগের নিষ্পত্তির কথা বলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। মিরাজ অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জামাল পালোয়ানের নেতৃত্বে তাকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মারধরে মিরাজের এক হাতের হাড় ভেঙে গেছে। অপর হাতেও গুরুতর আঘাত রয়েছে। আহত মিরাজ ফকির বলেন, ‘নুরু মোল্লা আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে জামাল পালোয়ানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা সবাই মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। তাদের আঘাতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা দিয়েছি।’ তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল পালোয়ান। তিনি বলেন, ‘আমি মিরাজ ফকিরকে মারধর করিনি। শুনেছি, মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তার হাত ভেঙেছে। আমাকে শত্রুতাবশত ফাঁসানো হচ্ছে। আগে মনির হাজীর সঙ্গে বিএনপির রাজনীতি করতাম। এখন মাসুদ হাওলাদারের রাজনীতি করি। এ কারণে মনির হাজী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’ দাড়িয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাওলাদার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। বর্তমানে আমি ঢাকায় আছি। নারী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মিরাজ ফকিরের ওপর হামলার ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন আমাকে জানিয়েছেন। হামলাকারীরা আমার রাজনীতি করতে পারে, তাই বলে কোনো অন্যায়কে আমি প্রশ্রয় দেব না। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর পুরো দাড়িয়াল ইউনিয়নকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করেছি। ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ করেছেন। তারপরও এলাকায় ফিরে বিষয়টি নিয়ে বিচার করব।’ এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, জামাল পালোয়ান ও সিরাজ আকনসহ একটি চক্র রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, একসময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং নির্যাতন-নিপীড়ন চালাত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে একই কায়দায় এলাকায় নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে চক্রটি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই চক্রের নেতৃত্বে এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক মহলের কতিপয় নেতার প্রশ্রয়ে তারা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে গত বছর সিরাজ আকনের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের সাপেক্ষে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’