‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই’—স্বজনদের খুঁজে পেতে পথে পথে ঘুরছেন বৃদ্ধা কুলসুম

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:১৯, অক্টোবর ৩১ ২০২৬ মিনিট

নিজের ঠিকানা মনে করতে পারছেন না। মনে করতে পারছেন না কোথায় তাঁর বাড়ি, কোন গ্রামে ফেলে এসেছেন জীবনের চেনা মানুষগুলোকে। অথচ স্বামী, সন্তান ও স্বজনদের নামগুলো এখনো স্পষ্ট মনে আছে। তাই তো বারবার মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন আর আকুতি জানাচ্ছেন—‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা কুলসুম বেগমের জীবনের গল্পটি এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’। আপাতত সংগঠনটির উদ্যোগে তাঁর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে সংগঠনটির তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ে রয়েছেন কুলসুম বেগম। স্বজনদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধা কুলসুম বেগমের বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। তাঁর স্বামীর নাম মোক্তার সিকদার (কুদ্দুস)। চার সন্তানের জননী তিনি। তাঁর এক ছেলের নাম ইব্রাহিম এবং তিন মেয়ের নাম সুফিয়া, ফিরোজা ও পারুল। এ ছাড়া তাঁর তিন দেবরের নাম জব্বার, হামিদ ও সত্তার। স্বামী একসময় ধান-চালের ব্যবসা করতেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের নাম, স্বামীর পেশা ও পারিবারিক নানা তথ্য মনে থাকলেও নিজের গ্রামের নাম, ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা জেলার পরিচয় স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না কুলসুম বেগম। তবে কথার ফাঁকে বারবার তাঁর মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ‘ঝিকরগাছা’ নামটি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তাঁর বাড়ির এলাকা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি নিয়ে বারবার বলছেন, ‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’ তাঁর এই আকুতি এখন মানবিক মানুষের সহায়তার অপেক্ষায়। বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ তাঁর স্বামী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন কিংবা সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য জানলে সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন বলেন, ‘বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে আমরা পথে পথে ঘুরতে দেখেছি। তাঁর অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছি। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যতদিন তাঁর স্বজনদের খোঁজ পাওয়া না যাবে, ততদিন তিনি আমাদের তত্ত্বাবধানে থাকবেন।’ একজন অসহায় বৃদ্ধার একটাই চাওয়া—হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়া। হয়তো কারও একটি তথ্য, একটি ফোনকল কিংবা সামান্য সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে কুলসুম বেগমের জীবনের হারিয়ে যাওয়া ঠিকানা।