বরিশালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ‘ভুয়া চিকিৎসক’ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জে চিকিৎসা বিষয়ক কোনো ডিগ্রি ছাড়াই রোগী দেখা এক নারী ও প্যাথলজিস্টবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার মাধবপাশা বাজারে চলা অভিযান শেষে এ জরিমানা করা হয় বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানিয়েছেন।
এর মধ্যে মেসার্স আন্নি ফার্মেসির মালিক তসলিমা আক্তার আন্নিকে ৫০ হাজার এবং পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের ম্যানেজার সাব্বির সরদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারা জানান, তাসলিমা আক্তার আন্নি এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুবিষয়ক বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন এমন সংবাদ পেয়ে এনএসআইর বরিশাল কার্যালয়ের একটি দল ছদ্মবেশে রোগী সেজে সেখানে যান এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া তার নিজস্ব ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন অভিযানে সাথে থাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম আসমাউল হুসনা।
একইসঙ্গে ভবিষ্যতে চিকিৎসা না দেয়ার মুচলেকাও রাখা হয়েছে।
পরে আদালত একই এলাকায় অবস্থিত পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায়।
সেখানে প্রয়োজনীয় সনদ ও প্যাথলজিস্ট ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরীক্ষাগারের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ মান ছিল না। তাই প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. সাব্বির সরদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক তুর্য্য অধিকারী এবং বিমানবন্দর থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, “বাবুগঞ্জ একটি ছোট উপজেলা হলেও এখানে কিছু অসাধু ব্যক্তি চিকিৎসাসেবার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
“ভুয়া চিকিৎসক, অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
