বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৫টি স্থানে সিটি ও পৌর টোলের নামে অর্থ আদায়!

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:১৮, অক্টোবর ২৮ ২০২৬ মিনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা খ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। দেশের অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্রটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ১৮ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে বিস্তৃত। পর্যটনকেন্দ্রে সড়কপথে যাতায়াতের জন্য একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক।

এই মহাসড়ক ধরেই প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকদের আগমন ঘটে কুয়াকাটায়। মহাসড়কটি একদিকে যেমন সরু অন্যদিকে পৌর টোলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ বাড়ছে পর্যটক, যানবাহনের চালকসহ এ রুট দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বরিশাল থেকে কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রতিটি যানবাহনকে চারশ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। মহাসড়কের ৫টি স্থানে সিটি ও পৌর টোলের নামে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বরিশাল থেকে কুয়াকাটাগামী প্রতিটা পরিবহনকে বরিশাল রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড ৫০ টাকা সিটি টোল, পটুয়াখালী বাস টার্মিনালে ১০০ টাকা, আমতলী পৌর টোল ১০০ টাকা, কলাপাড়ায় ৫০ টাকা এবং কুয়াকাটা পৌর টোলের নামে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে পর্যটক, চালক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও দেখার যেন কেউ নেই।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কুয়াকাটা থেকে এই ৫টি স্থান দিয়ে গাড়ি আসার সময় টোল দিতেই হবে। তাতে গাড়িতে যাত্রী থাকুক বা না থাকুক। কিংবা পৌরসভার বাস টার্মিনাল ব্যবহার হোক বা না হোক। টোল না দিয়ে আসার কোনো উপায় নেই। টোল না দিলে গাড়ি আটকে দেয়। চালক-সুপারভাইজারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। তারা রসিদ দিয়েই টোল নেয়। অনেক সময় রসিদে স্বাক্ষর থাকে অনেক সময় স্বাক্ষর থাকে না।

তারা আরও জানিয়েছেন, গাড়ি প্রতি চারশ টাকা অতিরিক্ত টোলের কারণে আমাদেরও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য গাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে নিতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যেতে প্রথমেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গৌরনদী পৌরসভার ওপর দিয়ে যেতে হয় পরিবহনগুলোকে। এক্ষেত্রে গৌরনদী বাস টার্মিনাল থাকলেও এখানে কোনো প্রকার টোল বা চাঁদা দিতে হয় না কাউকে।

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পরিবহন থেকে পৌর টোল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ওপর দিয়ে পরিবহন যাতায়াত করলেও কোনো টোল দিতে হয় না কাউকে।’

তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে, রূপাতলী, পটুয়াখালী, আমতলী, কলাপাড়া ও কুয়াকাটায়। এই পাঁচটি স্থান থেকে পরিবহন ছুটলেই টোলের নামে অর্থ গুনতে হয় পরিবহনগুলোকে।

এ বিষয়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, ‘গত ২২ অক্টোবর গৌরনদী প্রেস ক্লাবের ফ্যামিলি ডে উপলক্ষে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে গিয়েছিলাম প্রেস ক্লাব সদস্যদের পরিবার নিয়ে। ফিরতি পথে আমাদের বহনকারী গাড়ি থেকে পৌর টোল আদায় করা হয়েছে। মহাসড়কে এভাবে গাড়ি থামিয়ে পৌর টোল আদায় কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘রূপাতলী বাস টার্মিনাল এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাস টার্মিনালের বাইরে সড়ক থেকে কাউকে টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সিটি টোলের নামে চাঁদা আদায়ে আমরা কাউকে সড়ক ইজারা দিইনি।’

আমতলী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়কে যানবাহন থেকে পৌর টোল আদায় বন্ধে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। এর পরও কেউ টোল আদায় করে কি না, তা জানা নেই। তবে কেউ টোল আদায় করলে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

তবে কলাপাড়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্য লাল চক্রবর্তী বলেন, ‘শুধু কলাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ইজারা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়ক কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মহাসড়কে বাস থামিয়ে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

এদিকে কুয়াকাটা পৌর টোলের বিষয়ে জানতে পৌরসভার ওয়েবসাইট সার্চ করেও কারো ফোন নাম্বার পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ‘মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে টোল আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’