কচুরিপানা-আবর্জনায় ঢেকে গেছে ডিসি লেকের সৌন্দর্য

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২২:৪৯, অক্টোবর ২৭ ২০২৬ মিনিট

  • ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে মশার উপদ্রব
  • বেলস পার্কের সৌন্দর্যে মলিনতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী
মির্জা রিমন ॥ বরিশাল নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র বেলস পার্কের পাশেই ডিসি লেক। লেকের অপর পাশে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা ও দায়রা জজসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসভবন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনার সামনেই কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় ঢেকে গেছে লেকের বিস্তীর্ণ জলরাশি। দূষিত পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পানি স্থির হয়ে থাকায় তৈরি হচ্ছে মশার লার্ভা, বেড়েছে পুরো এলাকায় মশার উপদ্রব। বেলস পার্কে ঘুরতে আসা মানুষকে দুর্গন্ধের কারণে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। নগরবাসীর অভিযোগ, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও লেকটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, ডিসি লেকের পানির বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে জমেছে সবুজ কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদ। এর সঙ্গে মিশেছে নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম না থাকায় লেকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। কচুরিপানা ও বর্জ্যে পানির উপরিভাগ ঢেকে থাকায় জলাধারটির নান্দনিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পানি দূষণের আশঙ্কাও বাড়ছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও চলাচল ব্যাহত হয়ে বিভিন্ন স্থানে পানি স্থির হয়ে থাকছে। এতে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে লেকসংলগ্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্কে আসা মানুষ। বেলস পার্ক কেবল একটি খোলা মাঠ নয়, এটি বরিশাল নগরবাসীর অন্যতম প্রধান বিনোদন ও অবসর কাটানোর স্থান। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নানা বয়সী মানুষ এখানে হাঁটতে, শরীরচর্চা করতে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে আসে। পার্কের সৌন্দর্য ও পরিবেশের সঙ্গে পাশের ডিসি লেকও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুধু তাই নয়, বরিশাল জেলা প্রশাসনের সরকারি পর্যটনবিষয়ক ওয়েবসাইটেও বেলস পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে লেকটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে লেকটিকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও দৃষ্টিনন্দন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই গুরুত্বপূর্ণ জলাধারই এখন অবহেলা ও অপরিচ্ছন্নতার চিত্র তুলে ধরছে। লেকের পাশেই রয়েছে কয়েকটি ভাসমান ফাস্টফুডের দোকান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, এসব দোকান থেকে খাবারের উচ্ছিষ্ট, ব্যবহৃত প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য লেকের পানিতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানির দূষণ বাড়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধের তীব্রতাও বাড়ছে। পানিতে আবর্জনা জমে থাকা এবং কচুরিপানার বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাঁদের মতে, লেকে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং দোকানগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে দূষণ কমানো কঠিন হবে। সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বেলস পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পার্কের ভেতরের দোকানপাট উচ্ছেদ এবং প্রবেশপথে স্থায়ী গেট নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে । ফলে পার্কটির সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে পার্কের পরিবেশ সুন্দর রাখতে হলে পাশের ডিসি লেকের পরিচর্যা ও সংরক্ষণও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। তাঁদের মতে, শুধু পার্কের ভেতরের সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না, এর সঙ্গে জলাধারটিকেও পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখতে হবে। নিয়মিত কচুরিপানা ও ভাসমান আবর্জনা অপসারণ, পানিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ দূর করা এবং সার্বক্ষণিক তদারকি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে লেকের পানি যেন দীর্ঘদিন স্থির ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় না থাকে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের। এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার বলেন, “ডিসি লেক নিয়মিত পরিষ্কার করানো হলেও কিছুদিন পর আবার কচুরিপানায় ভরে যায়। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। লেকটি দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”