পায়রা নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য, হুমকিতে মৎস্য সম্পদ ও জেলেদের জীবিকা

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:১০, অক্টোবর ১৭ ২০২৬ মিনিট

বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা। নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা। কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা। এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”