মাদক-জুয়া বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:০৩, অক্টোবর ১৬ ২০২৬ মিনিট

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শুক্কুর আলী ব্যাপারী মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহর ভাতিজা বলেও জানা গেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদক সেবন, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘোষণার জের ধরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করছিলেন শুক্কুর আলী। এ সময় কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর অভিযোগ, ডুমুরীতলা গ্রামের রহমত ফরাজী, বারেক ফরাজী, মুজাম্মেল ফরাজী, মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী ও তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত বারেক ফরাজী হামলা ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দোকানের সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শুক্কুর আলীর সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়েছিল। তবে তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, মারধরের অভিযোগের পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'