বাউফলে যুবলীগ নেতার ভাই পেলেন সার ডিলারশিপ, বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৩৩, অক্টোবর ১২ ২০২৬ মিনিট

পটুয়াখালীর বাউফলে সূর্যমনি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমান যুবলীগ নেতার ভাই কাইউম হোসেন মৃধা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার ভাই আসাদ মৃধা আত্মগোপনে গেলেও পরিবারের সদস্যের ডিলার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাদের অভিযোগ, অতীতে এ পরিবারের সদস্যদের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নাকচ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। রোববার (১১ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কাইউম হোসেন মৃধাসহ ১৬ জনকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কাইউমের ভাই আসাদ মৃধা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সূর্যমনি ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাইউমের বাবা আব্দুর রব মৃধা একসময় নুরাইনপুর বাজারে সারের ব্যবসা করতেন। তার ছেলে আসাদও ওই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসাদ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তার ভাই কাইউম সারের দোকান পরিচালনা করছেন।

এদিকে, কাইউমের ডিলার নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে ওই পরিবারের সদস্যদের হাতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই পরিবারের একজনকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় তারা হতাশ।

সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুরের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ফুয়াদ হোসেন বলেন, ভাবতে কষ্ট হয়, যাকে সারের ডিলার দেওয়া হয়েছে, তার ভাই সূর্যমনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ফুয়াদের অভিযোগ, এ নিয়োগের ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তার মতে, কাইউমের ডিলারশিপ বাতিল করা উচিত।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাইউম হোসেন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘সার ডিলার নিয়োগের নিয়ম-নীতিমালা ২০২৫’ এবং ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত সার ব্যবস্থাপনা ২০২৬’ অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রথম দফায় বাউফল থেকে ৭৩ জন আবেদন করেন। পরে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে আরও ৩৫ জন আবেদন করেন। দুই দফায় মোট আবেদন জমা পড়ে ১০৮টি। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা কমিটি উপজেলা কমিটির কাছে পাঠায়। উপজেলা কমিটি বিধি অনুযায়ী সরেজমিনে যাচাই করে আবেদনগুলো পুনরায় জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ইউনিয়নভিত্তিক একজন করে মোট ১৬ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, জেলা কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছিল। উপজেলা কমিটি বিধি অনুযায়ী সরেজমিন যাচাই করে সেগুলো জেলা কমিটির কাছে ফেরত পাঠিয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই।’