পিরোজপুরে ভুল চিকিৎসায় চার গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যু

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:৫৮, অক্টোবর ১০ ২০২৬ মিনিট

কষ্টের উপার্জনে কিনেছিলেন দুটি ছাগল। নিজের শ্রম আর যত্নে সেগুলো লালন পালন করে ধীরে ধীরে ছাগলের সংখ্যা বাড়িয়ে করেছিলেন সাতটি। স্বপ্ন ছিল, ছাগলগুলোই এক দিন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে গেল। গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের চিকিৎসা দেওয়ার পর একে একে মারা গেছে তার চারটি গর্ভবতী ছাগল। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন হতদরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম। এখন প্রিয় ছাগলগুলো হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে বিচার চেয়ে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হতদরিদ্র শহিদুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে প্রথমে দুটি ছাগল কেনেন তিনি। যত্ন নিয়ে ছাগলগুলো লালন পালন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। এর মধ্যে চারটি ছাগল ছিল গর্ভবতী। ছাগলগুলোকে ঘিরে তার মনে ছিল বাড়তি আয়ের স্বপ্ন। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক অসুস্থ ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এর পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের যমুনাপাড়ি বলে দাবি করেছেন মালিক শহিদুল ইসলাম। তার অভিযোগ, গ্রাম্য পশু চিকিৎসক সোহেলের ভুল চিকিৎসার কারণে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এতে তার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কষ্টের উপার্জনে গড়া স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশ শহিদুল। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছাগল লালন পালন করে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চারটি গর্ভবতী ছাগলের মৃত্যুতে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে অনেক কষ্টে ছাগলগুলো লালন পালন করছিলেন শহিদুল। তার দাবি অনুযায়ী, ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, গ্রামে কিছু ব্যক্তি যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া প্রয়োজন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেল বলেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হয়েছিল। তাই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় খাবারের জন্য কৃমিনাশক ওষুধও দিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগ হলে ছাগলের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। তবে ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।