২২ বছর কারাবাসের পর হাসপাতালে মারা গেলেন ফাঁসির আসামি

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২১:৫৯, অক্টোবর ০৯ ২০২৬ মিনিট

  বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ২২ বছর বন্দি থাকার পর সুলতান হাওলাদার (৬৪) নামে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। জানা গেছে, একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তার বাবা আবদুর রব হাওলাদার দুই বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কারাগারে মারা যান। ফলে একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বাবা ও ছেলেরই কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হলো। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু ইউসুফ ঢাকাপোস্ট–কে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একটি হত্যা মামলায় ২০০৪ সালে আদালত সুলতান হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সুলতান হাওলাদার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তার বাবা দুই বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান ইরান বলেন, ২০০১ সালে ভবানীপুর গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি হত্যার শিকার হন। ওই হত্যা মামলায় সুলতান বেপারীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ইরান আরও বলেন, একই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সুলতানের বাবা আবদুর রব হাওলাদার প্রায় দুই বছর আগে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, সুলতান বেপারী একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে মামলাটির বিস্তারিত তথ্য আমাদের কাছে নেই। তাই কোন হত্যা মামলায় তার ফাঁসির আদেশ হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।