সাংবাদিকতা করবেন, আবার রাজনীতিও করবেন, পিরোজপুরে তা হতে দেওয়া হবে না: মাসুদ সাঈদী
নিজেস্ব প্রতিবেদক|২১:৫৬, অক্টোবর ০৯ ২০২৬ মিনিট
পিরোজপুরে নতুন করে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের উত্থান ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের পর বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলো করেছিল, তাদের কেউ কেউ সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে অতীতের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের পথে হাঁটছে। পিরোজপুরে নতুন করে ‘আউয়াল-মালেক’ তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুর টাউন স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রুকন সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের শুরুতে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট দেন সংগঠনটির ৬৭২ জন নারী ও পুরুষ রুকন।
বক্তব্যে নিজের নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি নিয়ে প্রচারিত বক্তব্যের সমালোচনা করে মাসুদ সাঈদী বলেন, নির্বাচনের পর তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে কিছু নেতা দাবি করছেন। অথচ তাঁরাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ রাতে তাঁর কাছে টিআর-কাবিখার বরাদ্দ চেয়ে আবেদনও করছেন। এ অবস্থায় তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায় না—এমন বক্তব্যকে অপপ্রচার বলে অভিহিত করেন তিনি।
সাংবাদিকতার সঙ্গে রাজনীতিকে না মেলানোর আহ্বান জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক বক্তব্য রাজনৈতিক পরিসরেই দেওয়া উচিত, আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয়কে ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতি করতে চাইলে সরাসরি রাজনৈতিক মাঠে আসুন, সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে বিতর্কিত করবেন না। পিরোজপুরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, পিরোজপুরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সমৃদ্ধ জেলা ও দেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করছেন। সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাজনীতিতে গঠনমূলক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অতীতে আওয়ামী লীগ যে ধরনের রাজনীতি করেছে, অন্য দলগুলোও একই পথে হাঁটলে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চর্চার পার্থক্য কোথায় থাকবে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাসুদ সাঈদী বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে চায় জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরছেন। বিরোধী দলে থেকেও ছায়া সরকারের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেওয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্মেলনে জেলা আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রব। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহিরুল হক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বরিশাল অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যাপক শাহ আলম।
অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, জেলা মজলিসে শূরার প্রতিনিধি নির্বাচনের অংশ হিসেবে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ ৮৫ বছর ধরে এ ধরনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে। নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা, দলীয় কোন্দল কিংবা গ্রুপিংয়ের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি দলটিকে গণতান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেন।