শেবাচিমে ৫ হাজার রোগীর জন্য ট্রলি মাত্র ৯-১০টি, চরম ভোগান্তি

নিজেস্ব প্রতিবেদক | ২০:২৬, অক্টোবর ০৮ ২০২৬ মিনিট

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ভর্তি রোগী থেকে শুরু করে বহির্বিভাগের রোগী—সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হয় হাসপাতালটিকে। অথচ এসব রোগীকে এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ট্রলির সংখ্যাই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হাসপাতালে ট্রলি আছে ১৩টি। তবে সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি ট্রলি সচল থাকে। কোনো ট্রলি নষ্ট হলে সেটি মেরামতের জন্য সরিয়ে রাখতে হয়। এতে একসঙ্গে রোগী পরিবহনের সক্ষমতা আরও কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে একসঙ্গে একাধিক রোগী এলে ট্রলির জন্য অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও স্বজনদের নিজেরাই ট্রলি ঠেলতে হচ্ছে। আবার ট্রলি না মিললে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কোলে করে ওয়ার্ডে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। হাসপাতাল সূত্র বলছে, ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শয্যাসংখ্যা এক হাজার। সময়ের সঙ্গে শয্যা ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়লেও রোগীর চাপ সেই তুলনায় আরও দ্রুত বেড়েছে। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। একই সময়ে বহির্বিভাগেও প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া প্রতিদিন নতুন করে দেড় থেকে দুইশ রোগী ভর্তি হচ্ছেন এবং প্রায় একই সংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছেন। ভর্তি রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেওয়া, ওয়ার্ড পরিবর্তন কিংবা জরুরি বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে স্থানান্তরের সময় ট্রলির প্রয়োজন হয়। ফলে সীমিতসংখ্যক ট্রলি দিয়ে প্রতিদিনের এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিজ্ঞতাতেও উঠে এসেছে এই সংকটের চিত্র। বরগুনার পাথরঘাটা থেকে স্বামীকে চিকিৎসার জন্য শেবাচিমে নিয়ে আসা ফাতেমা বেগম জানান, ইমার্জেন্সি গেটে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তারা ট্রলি পেয়েছেন। ট্রলির পাশাপাশি রয়েছে ট্রলিম্যান সংকটও। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিন শিফটে ট্রলিম্যানের অনুমোদিত পদ ২১টি। তবে দুজনকে আন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে জরুরি বিভাগে কার্যত দায়িত্ব পালন করেন ১৯ জন। প্রতি শিফটে ছয়জন করে কাজ করায় রোগীর চাপের তুলনায় জনবলও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। ট্রলিম্যানের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগের অফিস সহায়ক এবং আউটসোর্সিং কর্মীদেরও রোগী পরিবহনের কাজে যুক্ত করতে হয়। এতে তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। ট্রলি ও ট্রলিম্যান সংকটের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহামুদ হাসান বলেন, নষ্ট ট্রলিগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন ট্রলি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রলিম্যানের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।